
শাহরাস্তি প্রতিনিধি : শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে টাকা, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা। দিন দিন চুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার বদলে উল্টো চুরি আতঙ্কে মানসিক অশান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন রোগীরা।
অভিযোগ উঠেছে, কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও তদারকির অভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় একাধিকবার এই হাসপাতালে চুরির ঘটনা নিয়ে আলোচনা ও নানামুখী পদক্ষেপের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
চোর চক্রের হাত থেকে কোনোভাবেই রক্ষা করা যাচ্ছে না রোগীদের গহনা, মোবাইল ফোন ও গচ্ছিত অর্থ। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই চুরির দৌরাত্ম্য এখন বহির্বিভাগ ছাড়িয়ে হাসপাতালের আবাসিক ওয়ার্ড পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। সর্বশেষ গত ২১ অক্টোবর ২০২৬ (বুধবার) গভীর রাতে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে এক বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ চোর চক্র এক রাতেই রোগীদের স্বজনদের অন্তত ৮টি মোবাইল ফোন এবং নগদ প্রায় ৩০ হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগম ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তার ১টি মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ চুরি হয়েছে। এছাড়া খেড়িহর গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার স্ত্রী মোর্শেদা বেগমের ২টি মোবাইল ফোন ও নগদ ২৫ হাজার টাকা, চিতোষীর মাসুদ আলমের স্ত্রী মরিয়ম বেগমের ২টি মোবাইল ফোন, প্রসন্নপুরের জাবেদ হোসেনের স্ত্রীর ১টি মোবাইল ফোন ও নগদ ২,৫০০ টাকা, খেড়িহর গ্রামের ফাতেমা আক্তারের ১টি মোবাইল ফোন এবং বড়ুয়া গ্রামের মরিয়ম আক্তারের ১টি মোবাইল ও নগদ ২,৯০০ টাকা চুরি যায়। ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগম জানান, রাত ৪টার দিকে ঘুম থেকে উঠে নিজের মোবাইল ফোন ও টাকা না পেয়ে তিনি পাশের শয্যার রোগীদের ডাকেন।
পরে দেখা যায় আরও অনেকেরই একই অবস্থা। অথচ ঘটনার সময় হাসপাতালে আনসার সদস্য প্রহরার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। এত বড় চুরির ঘটনায় হাসপাতালের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অব্যবস্থাপনা ও রোগীদের দুর্ভোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নাসের শাকিল এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অচিন্ত্যের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা কল রিসিভ করেননি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহরাস্তি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আইয়ুব আলী জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”



