
চাঁদপুর খবর রিপোর্ট : চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও এককালীন বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম বলেছেন, “স্বাধীনতার পর থেকে দুর্নীতির কারণেই আমরা জাতি হিসেবে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারিনি। দুর্নীতি দূর করে সবাই যদি দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করত, তাহলে বাংলাদেশ আজ সিঙ্গাপুরের চেয়েও উন্নত হতে পারত। কারণ, আমাদের দেশে সব ধরনের সম্ভাবনা ও সম্পদ রয়েছে।”
তিনি বৃত্তিপ্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করে চাঁদপুরের মুখ উজ্জ্বল করেছ। ভবিষ্যতেও নিজেদের মেধা, যোগ্যতা ও সততার মাধ্যমে দেশের সুনাম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতিকে ‘না’ বলতে হবে এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোশারেফ হোসেন। সঞ্চালনা করেন সহকারী প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান।
পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান
পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম বলেন, ইলিশের বাড়ি হিসেবে পরিচিত চাঁদপুরে ইলিশের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার পেছনে নদীদূষণসহ নানা পরিবেশগত সমস্যা রয়েছে। মানুষের অসচেতন কর্মকাণ্ডে নদী আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে। নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও প্রজননক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইলিশের বংশবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হয়। তাই নদী ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এই দেশকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের। শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না, সৎ, দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ঐতিহ্যের প্রশংসা
বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য তুলে ধরে অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম বলেন, এ প্রতিষ্ঠান বহু জ্ঞানী-গুণী ও কৃতী মানুষের জন্ম দিয়েছে। এখান থেকে পড়াশোনা করে অনেকে পুলিশের আইজিপি, ব্যাংকার, বড় ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
তিনি এ বৃত্তি কার্যক্রম সফল করতে সবুর খানের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে এ প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থী ড. আবু আলী ইবনে সিনার কথা উল্লেখ করে তাঁর সাফল্যের জন্য গর্ব প্রকাশ করেন।
পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস
আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখার বিষয়ে অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম বলেন, চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের সঙ্গে পরামর্শ করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং আরও ভালোভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কী ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা যায়, তা নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মমিনুল হক মজুমদার ও সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, নৈতিক শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ জীবনে সফলতার জন্য এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাবুরহাট কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, শিক্ষানুরাগী আরশাদ আলী মজুমদার, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মহসিন মজুমদার লিটন, অভিভাবক সদস্য মো. মাসুদুর রহমান পালোয়ান, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ডা. শফিকুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন রাসেল, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ও শিক্ষানুরাগী মো. মোবারক পালোয়ান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর শেখসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
মেধাবীদের উৎসাহিত করতে বৃত্তি কার্যক্রম
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে শুরু হওয়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ বৃত্তি কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে ১০ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও এককালীন ১৫ হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হয়। এ ছাড়া একজন শিক্ষার্থীকে ২০ হাজার টাকা বৃত্তি দেওয়া হয়।
আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বৃত্তির পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি এ কার্যক্রমের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হবে। এর মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণে উৎসাহিত করা এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হবে।
শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতি, উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ এবং মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।



