চাঁদপুরে জমি বিরোধে নিরীহ নারীকে মারধর : গ্যাস-পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সদর উপজেলার ষোলঘর পাকা মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারীকে মারধর, বসতঘরের গ্যাস ও পানির লাইন বন্ধ, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, গাছ কেটে ফেলা এবং হত্যার হুমকিসহ নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রুমা আক্তার নামে এক নারী চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রুমা আক্তার চাঁদপুর সদর থানাধীন ষোলঘর পাকা মসজিদ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগে হাবিবুর দেওয়ান, ফারুক দেওয়ান, সুইটি বেগম, আয়শা বেগম ও হামিম দেওয়ানকে বিবাদী করা হয়েছে।

অভিযোগে রুমা আক্তার উল্লেখ করেন, প্রায় এক বছর আগে তিনি একটি একতলা ভবনসহ জায়গা ক্রয় করেন। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সম্পত্তিটি তার নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি সন্তানকে নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছেন।

তার অভিযোগ, সম্পত্তি ক্রয়ের পর থেকেই বিবাদীরা তার খরিদকৃত জায়গা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন এবং বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য একাধিকবার সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

রুমা আক্তারের আরো অভিযোগ, জায়গা-সম্পত্তি পরিমাপ করে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলে বিবাদীরা তার ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। একপর্যায়ে তার বসতবাড়ির গ্যাস ও পানির লাইন বন্ধ করে দেওয়া এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগও করেন তিনি।

লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বিবাদীদের কয়েকজন তার মালিকানাধীন জায়গায় থাকা গাছপালা কেটে ফেলেন। পরে একই দিন দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করা হয় বলে অভিযোগ করেন রুমা। এর প্রতিবাদ করলে একপর্যায়ে তাকে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মারধরের সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।একপর্যায়ে তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। এ সময় তার গলা থেকে একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় রুমা আক্তার চাঁদপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি তার বড় বোনের মাধ্যমে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ পাঠান।

অভিযোগের শেষাংশে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন রুমা আক্তার।

সম্পর্কিত খবর