
স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর শহরকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমী সচেতনতামূলক উদ্যোগ নিয়েছে সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠন ক্লিন চাঁদপুর। ‘বর্জ্য জমা দিন, খাদ্য ও গাছ নিন’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সংগঠনটির উদ্যোগে শুরু হয়েছে পরিবেশ সচেতনতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভিনব কর্মসূচি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে চাঁদপুর শহরের আদর্শ মুসলিমপাড়া এলাকায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য জমা দেওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা এবং খাদ্যসামগ্রী হিসেবে চাল, আলু ও পেঁয়াজ বিতরণ করা হয়। প্রথম দিনেই এলাকার অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে উপহার গ্রহণ করেন।
স্থানীয়রা জানান, আদর্শ মুসলিমপাড়া এলাকার এসবি খালসংলগ্ন এলাকায় পৌরসভার নির্ধারিত ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও অনেকেই বাসাবাড়ি ও দোকানের ময়লা-আবর্জনা রাস্তা ও খালে ফেলে আসছেন। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি খাল ও আশপাশের এলাকার সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্লিন চাঁদপুরের বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম চললেও এবার বর্জ্যের বিনিময়ে খাদ্য ও গাছের চারা দেওয়ার উদ্যোগটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
আদর্শ মুসলিমপাড়া এলাকার গৃহিণী ও চাঁদপুর গুয়াখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শাহানারা বেগম বলেন, আমাদের এলাকায় ডাস্টবিন থাকার পরও অনেকে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলেন। ক্লিন চাঁদপুর গত এক বছর ধরে বিভিন্নভাবে মানুষকে সচেতন করে আসছে। এবার বর্জ্যের বিনিময়ে খাদ্যসামগ্রী ও গাছের চারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় মানুষ উৎসাহিত হয়ে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলছেন। আমিও একটি গাছের চারা পেয়েছি। এ ধরনের উদ্যোগ পুরো শহরের মানুষের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
এলাকার বাসিন্দা ও ফরিদগঞ্জ গৃদকালিন্দিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সৌরভ দাস বলেন, আমি নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা জমা দিয়ে ক্লিন চাঁদপুরের কাছ থেকে গাছের চারা ও খাদ্যসামগ্রী পেয়েছি। আমার মতো এলাকার অনেকেই এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে উপহার গ্রহণ করেছেন।
ক্লিন চাঁদপুরের পরিচালক ফয়সাল খান বলেন, আমরা গত দুই বছর ধরে শহরের সৌন্দর্যবর্ধনে কাজ করে যাচ্ছি। রাস্তার পাশে থাকা বিভিন্ন গাছ ও বিদ্যুতের পিলার রঙতুলির ছোঁয়ায় রঙিন করার পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে শহরকে সবুজায়নের উদ্যোগ নিয়েছি। শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে খাল, বিল, নালা ও ডাস্টবিনে স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে নিয়মিত কাজ করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডাস্টবিন প্রদান, পানির ফিল্টার স্থাপনসহ নানা সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। করোনা মহামারির সময় থেকে স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি তরুণ-তরুণীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার আয়োজন করা হচ্ছে।
ক্লিন চাঁদপুরের প্রতিষ্ঠাতা ও জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নুরুল আমিন খান আকাশ বলেন, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই ক্লিন চাঁদপুর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। আমাদের অন্যতম লক্ষ্য হলো মানুষকে সচেতন করে আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখা।
তিনি বলেন, বাসাবাড়ির বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে জমা দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতেই আমরা বর্জ্যের বিনিময়ে চাল, পেঁয়াজ, আলু ও গাছের চারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। প্রথম দিনেই আমরা মানুষের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছি। এখন থেকে অন্তত সপ্তাহে একদিন চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।
ক্লিন চাঁদপুরের উদ্যোক্তারা মনে করছেন, বর্জ্যকে শুধু আবর্জনা হিসেবে না দেখে সচেতনতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস আরও কার্যকরভাবে গড়ে তোলা সম্ভব। ‘বর্জ্য জমা দিন, খাদ্য ও গাছ নিন’ কর্মসূচির মাধ্যমে একদিকে যেমন নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস তৈরি হবে, অন্যদিকে শহরে বাড়বে সবুজের পরিমাণ।




