
মাসুদ হোসেন : চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা পেল সাড়ে ৩ শতাধিক মানুষ। এনজিও সংস্থা ব্রাক ও চাঁদপুর মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে ইউনিয়নের পাইকদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উক্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টা থেকে শুরু হওয়া ক্যাম্পের শুভ উদ্বোধন করেন চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এস এম বাকের খন্দকার।
উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা সদস্য আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম খোকন মল্লিক, ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি মোশাররফ হোসেন কারী, দেলোয়ার হোসেন দুলু, সাধারণ সম্পাদক কামাল মিজি, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক কবিরাজ, সদস্য সাজ্জাদুল হক সোহাগ, ৬নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সোহেল, বিএনপি নেতা ইকবাল খান, মমিন খান, রিপন মিজি, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি শরীফ হোসেন বৈদ্য, যুবদল নেতা শাহ্ আলম সর্দার, কৃষকদল নেতা রমজান হোসেন খাঁন সহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা নিয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এস এম বাকের খন্দকার বলেন, চোখের চিকিৎসা মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু অর্থের অভাবে অনেক দরিদ্র ও অসহায় মানুষ সময়মতো চিকিৎসা করাতে পারেন না। তাদের কথা বিবেচনা করেই এ ধরনের চক্ষু ক্যাম্প আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমি আনন্দিত। তিনি বলেন, চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাইয়ের নির্দেশনা এবং ব্র্যাক ও মাজারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের সহযোগিতায় এ ক্যাম্পের আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে। ক্যাম্পে আগত রোগীদের আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষ করে বিনামূল্যে চশমা বিতরণ ও স্বল্প খরচে ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা অসহায় মানুষের জন্য উপকারে আসবে।
এস এম বাকের খন্দকার আরও বলেন, এলাকার অতি দরিদ্র মানুষের কথা বিবেচনা করে আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৪ থেকে ৫ জন অসহায় রোগীর ছানি অপারেশন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অর্থের অভাবে যেন কোনো মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে না থাকেন, সে জন্য তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই। তিনি আরও বলেন, মানুষের সেবা করাই আমাদের দায়িত্ব। শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের কল্যাণে স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।
আয়োজকেরা জানান, ক্যাম্পিং এ বিভিন্ন ধরনের চক্ষুরোগীর চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসা, চশমা, ঔষধ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়েছে। ছানি ও অন্যান্য জটিল চক্ষুরোগে আক্রান্তদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অস্ত্রোপচারের জন্য বাছাই করা হয়। বাছাই করা রোগীদের বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার করানো হবে। অস্ত্রোপচারের পর প্রয়োজন অনুযায়ী লেন্স, ওষুধ ও কালো চশমা দেওয়া হবে। এদিন বেলা ১টার দিকে সরেজমিন দেখা যায়, চক্ষু চিকিৎসা সেবা ক্যাম্পে প্রবেশের পর সেবাপ্রার্থীদের ক্রমিক নম্বর দিয়ে নির্দিষ্ট কক্ষে পাঠানো হচ্ছে। এসব কক্ষে টেকনিশিয়ান ও রিফ্রেকশনিস্টরা রোগীর প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। এরপর চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। ওই ব্যবস্থাপত্র দেখিয়ে তাঁরা বিনামূল্যে ওষুধ ও চশমা নিচ্ছেন।
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রিংকু খন্দকার, ছাত্রদল নেতা শান্ত গাজী ও হাবিব সর্দারের সার্বিক সহযোগিতায় ক্যাম্পে উক্ত এলাকা সহ আশপাশের বিভিন্ন বয়সী সাড়ে তিন শতাধিক চক্ষু রোগী এসে সেবা গ্রহণ করেন। তবে এখানকার স্বেচ্ছাসেবীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে অত্যন্ত সুন্দরভাবে চক্ষু চিকিৎসা সেবা ক্যাম্পিং কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। তবে সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে আয়োজকদের এমন মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানান এলাকাবাসী। নিয়মিত চক্ষু সেবা প্রদানের মাধ্যমে এলাকার দরিদ্র, বৃদ্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।




