শাহরাস্তিতে প্রবাসী স্বামীর অর্থে পড়াশোনা, সরকারি চাকরি পেয়ে স্ত্রী তালাক দিয়েছেন

শাহরাস্তি প্রতিনিধি : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে প্রবাসী স্বামীর অর্থে পড়াশোনা ও কোচিং করে সরকারি চাকরি পাওয়ার পর সাত মাসের মাথায় স্ত্রী তাকে তালাক দিয়েছেন—এমন অভিযোগ করেছেন সাইফুল ইসলাম খোকন নামে এক মালয়েশিয়াপ্রবাসী।

ঘটনাটি উপজেলার উনকিলা গ্রামের। সাইফুল ইসলামের অভিযোগ, স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদাউসের পড়াশোনা, কোচিং, ঢাকায় থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন খরচ তিনি দীর্ঘদিন ধরে বহন করেছেন। সরকারি চাকরি পাওয়ার পর তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। পরে স্ত্রী তাকে তালাকের নোটিশ পাঠান। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন সাইফুল ইসলাম।

পারিবারিকভাবে ২০১৬ সালে সাইফুল ইসলাম ও জান্নাতুল ফেরদাউসের বিয়ে হয়। বিয়ের আগ থেকেই সাইফুল মালয়েশিয়ায় প্রবাসজীবন কাটাচ্ছিলেন। বিয়ের পর জীবিকার তাগিদে তিনি আবারও মালয়েশিয়ায় চলে যান।

সাইফুলের দাবি, স্ত্রী পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে তিনি তাকে একটি কলেজে ভর্তি করে দেন এবং পড়াশোনার খরচ বহন করেন। পরবর্তীতে সরকারি চাকরির প্রস্তুতির জন্য স্ত্রীকে ঢাকায় নিয়ে কোচিং সেন্টারে ভর্তি করা হয়। প্রায় চার বছর ঢাকায় থেকে কোচিং ও চাকরির প্রস্তুতি নেওয়ার পর ২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জান্নাতুল ফেরদাউস খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে অফিস সহকারী পদে চাকরি পান বলে জানান সাইফুল।

সাইফুলের অভিযোগ, চাকরি পাওয়ার পর থেকে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে তার সন্দেহ সৃষ্টি হলে তিনি কাউকে না জানিয়ে গত ১ জুলাই দেশে ফিরে ঢাকায় স্ত্রীর কর্মস্থলে যান।

সেখানে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর তিনি তাকে অপেক্ষায় রেখে চলে যান বলে দাবি সাইফুলের। পরে তিনি ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরে বিষয়টি শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানান। তারা পারিবারিকভাবে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
তবে এর কয়েক দিনের মধ্যেই সাইফুলের বাড়িতে স্ত্রীর পাঠানো তালাকের নোটিশ পৌঁছে বলে জানান তিনি।

সাইফুল ইসলাম বলেন, স্ত্রীর আবদার অনুযায়ী পড়াশোনা, কোচিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি সহযোগিতা করেছেন। প্রবাসে উপার্জিত অর্থের বড় একটি অংশ স্ত্রীর পড়াশোনা ও জীবনযাপনের পেছনে ব্যয় করেছেন। এখন তিনি এ ঘটনার প্রতিকার চান।
এ ঘটনায় নিজের গচ্ছিত অর্থ ও সম্পদের বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে চাঁদপুর আদালতে মামলা করেছেন বলেও জানান সাইফুল।

এ বিষয়ে জান্নাতুল ফেরদাউসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে তার ভাই ফয়সাল আহমেদ বলেন, সাইফুল বিদেশে থাকাকালে তার বোনের খোঁজখবর রাখতেন না। এ কারণে জান্নাত তাকে তালাক দিয়েছেন। তবে জান্নাতের পড়াশোনা, কোচিং, ঢাকায় বাসাভাড়া, থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন খরচ সাইফুলের অর্থে হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের বক্তব্য ও আদালতে দায়ের করা মামলার বিষয়টি তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে।

সম্পর্কিত খবর