চাঁদপুরে ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে বৃদ্ধ বাবাকে মারধরের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর শহরের দর্জি ঘাট এলাকায় ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মারধর, বসতঘর ভাঙচুর এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ওই বৃদ্ধ ও তাঁর ছেলে আহত হয়েছেন। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চাঁদপুর সদর মডেল থানাধীন ১২ নম্বর ওয়ার্ডের দর্জি ঘাট এলাকায় ঘটে। এ ঘটনায় আব্দুল আজিজ খান (৭০) চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়, আব্দুল আজিজ খানের ছেলে নাছির খান (৪২) ও তাঁর স্ত্রী রাজিয়া বেগম (৩২) দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে গালাগাল এবং মারধর করে আসছেন। নাছির মাদক সেবনের জন্য ঘরের আসবাবপত্র বিক্রি করে দেন এবং তাঁদের কাছে থাকা টাকা নিয়ে মাদক সেবন করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

পাশাপাশি বাবার সম্পত্তি তাঁর নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ এবং তাঁদের বসতঘর থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারী আরও বলেন, ঘটনার দিন নাছির তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে গালাগাল করতে থাকেন এবং মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে হাত, মুখ ও নাকে আঘাত করা হয়। পরে গলায় চাপ দিয়ে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় তাঁর চিৎকার শুনে ছেলে মো. বশির (৪০) এগিয়ে এলে নাছির ধারালো দা দিয়ে তাঁর মাথা লক্ষ্য করে কোপ দেন। এতে বশিরের মাথায় গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয় এবং চারটি সেলাই দিতে হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁকেও ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, নাছির তাঁর স্ত্রীকেও মারধর করে আহত করেন।

পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয় এবং বসতঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা বিষয়টি কাউকে জানালে আব্দুল আজিজ খান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেন এবং তাঁদের ঘরে আগুন দেওয়ার হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আব্দুল আজিজ খান ও তাঁর ছেলে বশির চাঁদপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন।

চিকিৎসা নেওয়া এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানানোর কারণে থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন। অভিযোগে আব্দুল আজিজ খান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর