
স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার দেবীপুর খন্দকার বাড়ি জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে সংঘটিত হামলায় আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুল হুদাসহ অন্তত সাতজন আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বাদ জুমা এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জুমার নামাজ শেষে মসজিদের ভেতরেই ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেশীয় ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলায় অ্যাডভোকেট নাজমুল হুদা, তাঁর ছেলে মিনহাজুল হুদা রাহি, ভাই জয়নাল আবেদীন, ভাতিজা জুনায়েদ ও মঞ্জুসহ পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন খন্দকার গুরুতর আহত হন। অভিযোগে বলা হয়, হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অ্যাডভোকেট নাজমুল হুদা ও তাঁর ছেলে মিনহাজুল হুদা রাহির নাকে গুরুতর জখম হয়। এছাড়া নাজমুল হুদার মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন বলে দাবি করা হয়েছে।
পরে মসজিদের মুসল্লি ও স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অ্যাডভোকেট নাজমুল হুদার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল অথবা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন বলে পরিবার জানায়।
ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, হামলায় ২০ জনের একটি দল অংশ নেয়। এ ঘটনায় তাঁরা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চিকিৎসা শেষে মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা। এদিকে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। অ্যাডভোকেট নাজমুল হুদা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ঘটনার পর দেবীপুর মাজার সংলগ্ন জামে মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দুষ্কৃতিকারী তালিকা: ১)গোলাম মোর্শেদ রুবেল(৩৮), পিতা মৃত আবুল হাসেম,দেবীপুর মধ্য খন্দকার বাড়ি। ২) মোঃ আলমগীর হোসেন সুমন(৩৫), পিতা মৃত আমির হোসেন ভূঁইয়া, সাং-দেবীপুর নতুন ভূইয়া বাড়ি। ৩)মোঃ শামীম(৪০), পিতা দেলোয়ার হোসেন, সাং- দেবীপুর ব্রামণ বাড়ি আচ্ছা ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ৪) মোঃ দুলাল(৩৫), ৫) মোঃ সুজন (৩০), উভয় পিতা মৃত ইব্রাহিম খলিল বাচ্চু,উভয় সাং- দেবীপুর পশ্চিম খন্দকার বাড়ি। ৬)মোঃ সেলিম ভূঁইয়া(৫০), পিতা মৃত আমির হোসেন ভূঁইয়া, সাং-দেবীপুর নতুন ভূইয়া বাড়ি। ৭) আসাদ (২৬), ৮) আরিফ (২২), উভয় পিতা আরমান, উভয় সাং- দেবীপুর পশ্চিম খন্দকার বাড়ি।
৯) মোঃ বেলাল(৩০), ১০) মোঃ হেলাল(৩৫), উভয় পিতা শাহজাহান খলিফা , উভয় সাং- দেবীপুর পশ্চিম খন্দকার বাড়ি। ১১) মোঃ মেহেদী(৩২),পিতা মৃত অরুণ মিয়া, সাং- দেবীপুর পশ্চিম খন্দকার বাড়ি। ১২) শামীম (২২),পিতা মোঃ সেলিম,সা-দেবীপুর নতুন ভুইয়া বাড়ি, ১৩)মোঃ মাহমুদ(২৪) পিতা মহসিন ভূঁইয়া, সাং-দেবীপুর নতুন ভুইয়া বাড়ি ১৪) মোঃ আকবর হোসেন ওরফে মাদক সম্রাট আকবর(৪০),পিতা মৃত সফিউল্লাহ দেবীপুর মধ্য খন্দকার বাড়ি। ১৫) মোঃ ইউসুফ(২০),পিতা মোঃ সুবাহান, দেবীপুর পশ্চিম খন্দকার বাড়ি, ১৬) মোঃ রবিন(২২), পিতা মোঃ এমরান হোসেন, সাং-দেবীপুর পশ্চিম খন্দকার বাড়ি। ১৭)মোঃ মহসিন(৪৫),পিতা মৃত আমির হোসেন ভূঁইয়া, দেবীপুর নতুন ভূঁইয়া বাড়ি।
১৮) সাইফুল ইসলাম রনি(৫৫), পিতা মৃত নুরুল ইসলাম, সাং-দেবীপুর মীর বাড়ি। ১৯)আমির হোসেন(৫৫),পিতা মৃত ২০)সাইফুল ইসলাম (৩৬),পিতা মোঃ আমির হোসেন : উভয় সাং- দেবীপুর পশ্চিম খন্দকার বাড়ি উক্ত তথ্য ভুক্তভোগীরা সহ মসজিদের ইমাম ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ প্রদান করেন। উক্ত বিষয়ে এডভোকেট নাজমুল হুদা রাষ্ট্র ও সরকার যন্ত্র প্রশাসনের নিকট ন্যায় বিচার দাবি করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা দাবি করেন।
চিকিৎসা শেষে ভুক্তভোগী অ্যাডভোকেট নাজমুল হুদা ও তার পরিবারের সদস্যরা আইনের আশ্রয় গ্রহণ করবেন মর্মে জানান। উক্ত বিষয়ে প্রতিপক্ষদের সাথে যোগাযোগ করলে তাহারা উক্ত ঘটনা অস্বীকার করে। বর্তমানে দেবীপুর মাজার সংলগ্ন জামে মসজিদ এলাকায় আশেপাশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করতেছে।




