দেড় দশক পর চাকরিতে পুনর্বহাল দুদক কর্মকর্তা শাব্বির হাসান

প্রায় দেড় দশক সাময়িক বরখাস্ত থাকার পর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আলোচিত কর্মকর্তা এম. এম. শাব্বির হাসানকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে বুধবার পুনর্বহালের অফিস আদেশ জারি করা হয়। দুদক চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এতে স্বাক্ষর করেন।

একই দিন আদেশটি কার্যকর করা হয়। দুদকের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত কমিশনের সভায় বিজ্ঞ আদালতের রায় এবং হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের না করার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এম. এম. শাব্বির হাসানকে তার বিরুদ্ধে রুজুকৃত বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে চাকরিতে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আদেশের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়, সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারপূর্বক বিভাগীয় মামলা নং-০৩/২০১১-এর অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি প্রদান করে তাকে দুর্নীতি দমন কমিশনের চাকরিতে পুনর্বহাল করা হলো। একই সঙ্গে তার সাময়িক বরখাস্তকালীন সময় কর্মকাল হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬-১৯৯৭ সালে শিকলবাহা, হরিপুর ও খুলনায় বার্জ-মাউন্ট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের করেন দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক এম. এম. শাব্বির হাসান।ওই মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও তৎকালীন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সচিব তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, পিডিবির তৎকালীন চেয়ারম্যান নূরুদ্দীন মাহমুদ কামাল, সামিট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আজিজ খান, পরিচালক মুহাম্মদ ফরিদ খান, ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা ও পরিচালক আবুল কালাম আজাদকে আসামি করা হয়। এ ছাড়া ওয়ান-ইলেভেন-পরবর্তী সরকার আমলে আরও কয়েকটি আলোচিত মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শাব্বির হাসান।

চাকরিতে থাকা অবস্থায় পরবর্তীতে চট্টগ্রাম দুদক কার্যালয়ে ঘুষ গ্রহণের একটি মামলায় তাকে আসামি করা হয়। শাব্বির হাসানের পক্ষ থেকে ওই মামলা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়। মামলাটি নিয়ে সে সময় তাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনাও হয়। ২০১৬ সালে ওই মামলায় আদালত থেকে খালাস পান শাব্বির হাসান। তবে খালাসের বিরুদ্ধে তৎকালীন দুদক কমিশন হাইকোর্টে আপিল করায় বিষয়টি দীর্ঘদিন বিচারাধীন ছিল বলে জানা গেছে। একই সময়ে তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশও বহাল ছিল।

এদিকে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে তোলা হয়েছিল। এ কারণে পরবর্তী কমিশনগুলো তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পর গতকাল তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার এবং বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রায় দেড় দশক পর চাকরিতে পুনর্বহাল হলেন দুদকের এই কর্মকর্তা। তথ্যসূত্র:দৈনিক ইনকিলাব তাং ৩০.৯.২০২৬ ।

সম্পর্কিত খবর