
চাঁদপুর খবর রিপোর্ট :চাঁদপুর শহরের কুমিল্লা রোডের আখন্দ মার্কেটের ‘এস. কে শিল্পালয়’-এর স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে তাকে চাঁদপুর আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর-১৪৪, তারিখ-২৯ আগস্ট ২০২৬। মামলাটি প্রতারণা ও আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা হয়।
বাদী রাসেল, আসামি পিন্টু দাস
মামলার বাদী রাসেল (২৫)। তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলার উত্তর রঘুনাথপুর, ৫ নম্বর পৌর ওয়ার্ড, পুরান বাজার এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম মুনছুর খা এবং মাতার নাম হোসনেয়ারা বেগম।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, পিন্টু দাসের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের পরিচয় ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। পিন্টু দাস চাঁদপুর শহরের কুমিল্লা রোডের আখন্দ মার্কেটে ‘এস. কে শিল্পালয়’ নামে স্বর্ণের ব্যবসা করতেন।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, বাদী বিভিন্ন সময়ে তার স্বর্ণালংকার পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রেখে টাকা নেন। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট চার আনা স্বর্ণের চেইন বন্ধক রেখে ২০ হাজার টাকা, ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই ১২ আনা ৫ রতি স্বর্ণ বন্ধক রেখে ৬০ হাজার টাকা, ২০২৬ সালের ১ মার্চ পাঁচ আনা ৪ রতি স্বর্ণ বন্ধক রেখে ৩৫ হাজার টাকা, ২০২৫ সালের ৪ জুন চার আনা স্বর্ণ বন্ধক রেখে ২৫ হাজার টাকা এবং ২০২৬ সালের ১১ আগস্ট সাত আনা ৫ রতি স্বর্ণ বন্ধক রেখে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার কথা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, পরবর্তীতে তিনি বন্ধকী স্বর্ণ ফেরত নেওয়ার জন্য পিন্টু দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পিন্টু দাস তাকে ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দোকানে আসতে বলেন।
দোকান ও বাসা তালাবদ্ধ, স্বর্ণ ব্যবসায়ীর খোঁজ মেলেনি
এজাহারে বলা হয়, ২০ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে বাদী পিন্টু দাসের দোকানে গিয়ে সেটি বন্ধ দেখতে পান। আশপাশের দোকানদারদের কাছে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, আরও কয়েকজন ব্যক্তি পিন্টু দাসকে খুঁজতে এসেছেন।
পরে তার ভাড়া বাসায় গিয়ে সেটিও তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে বাদী জানতে পারেন, তাদেরও বিভিন্ন সময়ে স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে টাকা নেওয়া হয়েছিল এবং টাকা ফেরত দেওয়ার পর বন্ধকী স্বর্ণ ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে বাদী দাবি করেন, তারসহ কয়েকজনের বন্ধক রাখা স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ টাকা। এসব স্বর্ণালংকার প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎ করে পিন্টু দাস আত্মগোপন করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে পাঁচ সাক্ষীর নাম
মামলার এজাহারে পাঁচজন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—
১. মো. জাহিদুল ইসলাম (২৫)
২. ফাতেমা বেগম (২৭)
৩. শান্তা বিশ্বাস (৪০)
৪. নাছিমা আক্তার (৪০)
৫. আব্দুল কুদ্দুস (৩৬)।
এজাহারে তাদের বিভিন্ন ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে।
আসামির বিস্তারিত পরিচয়
মামলার একমাত্র আসামি হিসেবে পিন্টু দাস (৪০)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তার পিতার নাম সুনিল কুমার দাস এবং মাতার নাম কাঞ্চন বালা। এজাহার অনুযায়ী তার স্থায়ী ঠিকানা চট্টগ্রামের পটিয়া থানাধীন ধলিঘাট, দাশ বাড়ি। পাশাপাশি চাঁদপুর শহরের মিজানুর রহমান চৌধুরী সড়কের সৌর ভিলার ৪র্থ তলার ৪বি নম্বর ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকার ঠিকানাও উল্লেখ রয়েছে।
নিখোঁজের পর পটিয়া থেকে উদ্ধার
এর আগে গত ২০ আগস্ট থেকে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ পিন্টু দাস নিখোঁজ ছিলেন। তার দোকান ও বাসা দীর্ঘসময় তালাবদ্ধ থাকায় বিষয়টি নিয়ে চাঁদপুরে আলোচনা তৈরি হয়।
পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং মালামাল পরিবহনকারী ট্রাকচালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকায় তার পরিবারের অবস্থান শনাক্ত করে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ। শুক্রবার ভোরে অভিযান চালিয়ে পিন্টু দাস, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে উদ্ধার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ লুৎফর রহমান জানান, পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাই তাদের পিন্টু দাসের পিতার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়, প্রতারণার অভিযোগের পাশাপাশি পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে আরও কোনো অভিযোগ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।




