
চাঁদপুর খবর রিপোর্ট: চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দুর্নীতি, দালালের দৌরাত্ম্য ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের ঝটিকা অভিযানের পর অফিসটির সেবাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে অফিসের প্রধান হিসাবরক্ষক উত্তম কুমার সাহাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
সম্প্রতি পাসপোর্ট অফিসে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলেন সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। এ সময় অফিসের সামনে থেকে তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রধান হিসাবরক্ষক উত্তম কুমার সাহার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলছে বলে জানান সংসদ সদস্য।
দালালনির্ভর সেবার অভিযোগ : পাসপোর্ট করতে আসা কয়েকজন সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, দালালের সহযোগিতা ছাড়া অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। অফিসের সামনের কয়েকটি কম্পিউটার দোকানকে কেন্দ্র করে একটি দালালচক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, সরকারি ফি পরিশোধের বাইরে অতিরিক্ত অর্থের দাবি কিংবা অযথা হয়রানির শিকার হলে সাধারণ মানুষকে বিপাকে পড়তে হয়। তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে প্রধান হিসাবরক্ষক উত্তম কুমার সাহার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উত্তম সাহার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন পাসপোর্ট অফিসের প্রধান হিসাবরক্ষক হিসেবে উত্তম কুমার সাহার দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগের প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং দাপ্তরিক নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক অভিযানের সময় উত্তম কুমার সাহাকে সতর্ক করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলছে বলে জানান। তবে তদন্তের অগ্রগতি, অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিবরণ এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি :
সাধারণ মানুষের পাসপোর্ট সেবা নিশ্চিত করতে দালালচক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, অভিযোগ গ্রহণের স্বচ্ছ পদ্ধতি এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে চাঁদপুর পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রধান হিসাবরক্ষক উত্তম কুমার সাহার বক্তব্যও এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।




