অর্থ কেলেঙ্কারি এড়াতে সপরিবারে আত্মগোপনে চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস

চাঁদপুর খবর রিপোর্ট : চাঁদপুর শহরের কুমিল্লা রোডের আখন্দ মার্কেটের ‘এস কে জুয়েলার্স অ্যান্ড শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাস (৪৫) সপরিবার আত্মগোপনে রয়েছেন। স্বর্ণ ও অর্থ কেলেঙ্কারি এড়াতে এমন আত্নগোপনের ঘটনা ঘটিয়েছে স্বর্ন ব্যবসায়ী পিন্টু দাস বলে মনে করেন চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।

এদিকে গত ১৯ আগস্ট থেকে তাঁর ভাড়া বাসা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ রয়েছে।

এ ঘটনায় বাসার বাড়ির মালিক আলহাজ্ব আ:গফুর সাহেবের ছোট ছেলে মোহাম্মদ রাসেল খান চাঁদপুর সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

গত ১৯ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে বাড়ির মালিক আলহাজ্ব আ:গফুর সাহেবের ছেলে রাসেল খান পিন্টু দাসের খোঁজ নিতে গিয়ে বাসার দরজায় তালা দেখতে পান। পরে তাঁর ব্যবহৃত ০১৭১৯-৫৫৭১৫২ নম্বরে ফোন করা হলে সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

আশপাশের লোকজনের কাছে খোঁজ নিয়েও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতের জন্য বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করতে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়রীভুক্ত করেন বাড়ীর মালিকের ছোট ছেলে রাসেল খান। জিডির নম্বর ১৩৯৬ এবং তারিখ ২২ আগস্ট ২০২৬।

বাড়ীর মালিকের ছেলে রাসেল খান জানান,২৬আগষ্ট চাঁদপুর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ তার বাড়ীতে আসেন এবং বিষয়টি নিয়ে ড়খোঁজখবর নেন।

এদিকে জানা গেছে,২৬আগষ্ট দিবাগত রাত ৩টার দিকে চাঁদপুর মডেল থানার এসআই কালাম গাজীসহ একদল পুলিশ পিন্টু দাসের ভাড়া বাসায় দরজা তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালায়। তবে পুলিশ তার বাসার ভিতরে সামান্য ফার্নিচার ছাড়া কিছুই পায়নি পুলিশ।

এদিকে পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বন্ধকি স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে তা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের দাবি, পিন্টু দাস দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণালংকার বন্ধকি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক নেওয়ার পর সময়মতো তা ফেরত দিতে না পারায় একাধিকবার সালিসও হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ব্যবসার নামে বিভিন্ন সমিতি থেকেও তিনি ঋণ নিয়েছিলেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, পিন্টু দাসের কাছে তাঁদের স্বর্ণালংকার ও টাকা পাওনা রয়েছে। এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয় এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী জানান, এক বছর আগে শহরের নতুন বাজার এলাকার এক ব্যক্তি পিন্টু দাসের কাছে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণ বিক্রির জন্য দিয়েছিলেন। টাকা পরিশোধে বিলম্ব হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সালিস হয়। সালিসে তিনটি চেকের মাধ্যমে ছয় লাখ টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই পিন্টু দাস সপরিবার বাসা ছেড়ে চলে গেছেন বলে তিনি শুনেছেন।

চাঁদপুর জেলা জুয়েলারি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মানিক পোদ্দার জানান, পিন্টু দাসের সঙ্গে পাওনা সংক্রান্ত একটি সালিসে তিনি উপস্থিত ছিলেন। তবে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না।

চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতারাও পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে স্বর্ণ ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ শোনার কথা জানিয়েছেন। তবে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তাঁদের কাছে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেননি।

চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে স্বর্ণ ও টাকাপয়সা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে পিন্টু দাসের নিখোঁজ বা আত্মগোপনে যাওয়ার বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে পিন্টু দাসের বাসা ও দোকান বন্ধ থাকায় পাওনাদার ও স্বর্ণালংকার বন্ধক রাখা ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সম্পর্কিত খবর