
স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরে সড়ক ও জনপথ (সওজ)-এর জায়গা অবৈধভাবে দখল করে গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন ও সড়ক বিভাগ। সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্বিতীয় দিনের মতো জোরালো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এদিন প্রায় অর্ধশত স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
অভিযানের শুরুতেই কঠোর বার্তা দেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউনুস আলী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “সড়ক ও জনপথের জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে আমরা আগেই নোটিশ প্রদানসহ মাইকিং করেছি। বারবার বলার পরও যারা নিজ দায়িত্বে জায়গা ছাড়েননি, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় ছিলো না।
চাঁদখাঁর বাজার থেকে শুরু হয়ে মহামায়া, দেবপুর ও বাকিলা বাজার পেরিয়ে আমাদের আজকের (মঙ্গলবারের) অভিযান বলাখাল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। জনগণের চলাচলের পথ সুগম করতে এই কার্যক্রমে কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। কোনো প্রকার বাধার সম্মুখীন না হয়েই আমরা সফলভাবে আজকের কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। আগামীতেও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।” আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে মাঠে শক্ত অবস্থানে ছিলেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হুদা। ঘটনার সত্যতা ও আইনি দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, “জেলা প্রশাসকের সার্বিক নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে আমরা মাঠে আছি। অনেককে বারবার সতর্ক করার পরও তারা সড়কের জায়গা দখল করে গাছের গুঁড়ি বা নির্মাণসামগ্রী রেখেছিলেন।
যারা আইন অমান্য করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আজকের অভিযানে কয়েকটি মামলায় জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় একজনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে চলাচল করতে পারেন।” উচ্ছেদ অভিযানে প্রশাসনের এই পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন ২ নম্বর বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান।
স্থানীয় জনগণের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি জায়গা দখলমুক্ত হলে এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট ও জনদুর্ভোগ স্থায়ীভাবে দূর হবে। প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থানের ফলে অবৈধ দখলদারদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান আগামীতেও নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।




