
এস এম ইকবাল/ মামুন হোসাইন ঃ চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার বড়ালী গ্রামের আজিম বাড়ির মনুহর-ফুলবানু দম্পতির ছয় শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তান দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। পরিবারের উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় অর্ধাহার-অনাহারসহ নানা দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে দিন কাটছিল তাদের। অবশেষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভাঙা ঘরের স্থলে নির্মাণ করা হয়েছে একটি পাকা ভবন। এতে পরিবারটির দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটেছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে নবনির্মিত বাড়িটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ জিয়াউর রহমান।
উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক আহমেদজিয়াউর রহমান বলেন, “সমাজের অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশেদাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। তাদের নিরাপদ আবাসন ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। মানবিক উদ্যোগগুলোকে আরও এগিয়ে নিতে সরকারি-বেসরকারি সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তাহলেই একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গড়ে উঠবে।
নতুন বাড়ি পেয়ে আবেগাপ্লুত পরিবারের সদস্য সুমন হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমাদের ভাঙাচোরা ঘরে বৃষ্টি হলে পানি পড়ত। এখন ইউএনও আমাদের নতুন ভবন করে দেওয়ায় আমরা শান্তিতে ঘুমাতে পারব।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মানিক হোসেন বলেন, “এই পরিবারের মা॥থা গোঁজার ঠাঁই ছিল না। আমাদের পরিবারের পূর্বপুরুষরা তাদের একখণ্ড জমি দিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে ভাঙাচোরা ঘরে তারা বসবাস করতেন। ইউএনও নতুন ভবন করে দেওয়ায় এখন তারা নিরাপদে থাকতে পারবেন। এটি মানবিকতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, “সমাজের অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। রাষ্ট্রের সুষম ও টেকসই উন্নয়নের জন্য সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ আর এম জাহিদ হাসান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, পরিবারটির দুর্দশার চিত্র বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়ার নজরে আসে। তিনি দ্রুত পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে প্রাথমিকভাবে খাদ্যসহায়তা ও প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রদান করেন। পাশাপাশি পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধানে ভাঙা ঘরের স্থলে একটি পাকা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেন।
ইউএনওর উদ্যোগে পুরোনো ঘরটি অপসারণ করে সেখানে নির্মাণ করা হয় নতুন পাকা ভবন। শুধু আবাসনের ব্যবস্থা নয়, পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রস্তুত করা দোকানে বিদ্যুৎ সংযোগ, একটি নতুন ফ্রিজ এবং নতুন বাড়িতে বসবাসের জন্য খাট, তোশকসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নতুন এই বাড়ি পেয়ে পরিবারটির সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নিরাপদ আবাসনের সুযোগ পাওয়ায় প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে মানবিক ও প্রশংসনীয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।




