শাহমাহমুদপুরে বসতঘরে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে বসতঘরে অগ্নিকান্ডের ঘটনার জের ধরে কয়েকজন নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী মানুষগুলো।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত মাসের ১৩ তারিখ রাতে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ভড়ঙ্গারচর গ্রামের মৃত রফিক হাওলাদারের দোচালা বসতঘরে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। পরে আশপাশের বহু সংখ্যক মানুষ এসে ঘন্টাখানেক চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এর মধ্যে বসতঘরের প্রায় সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এসময় বসতঘরে কেউ না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করা কয়েকজন কিছুটা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে জানা যায়।

বসতঘরে আগুন লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মৃত রফিক হাওলাদারের স্ত্রী ফরিদা বেগম সন্দেহজনকভাবে কয়েকজনকে আসামী করে তার প্রবাসী দেবর স্বপন হাওলাদার ও তার স্ত্রী আকলিমা বেগম এবং কাকা শশুর শাহীন হাওলাদারের বিরুদ্ধে চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন। এমনকি আশপাশের অন্যান্য লোকজনকেও মামলার হুমকি দিয়ে আসছেন।

এবিষয়ে শুক্রবার দুপুরে বাদী ফরিদা বেগমের ননস বেবি বেগম বলেন, আমার এই ছোট ভাইয়ের বউ অত্যন্ত দুষ্টু প্রকৃতির লোক। সে এবং তার ছেলে মিলে এলাকার সহজসরল মানুষদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে যাচ্ছে। প্রতিবেশী আলমগীর হাওলাদার, তাজুল পাটওয়ারী, সাজু গাজী, আনোয়ার গাজী, তাজুল ইসলাম হাওলাদার, কলমতর খান সহ আরো কয়েকজন জানান, ওনাদের ঘরে আগুন কিভাবে লেগেছে তা কেউ বলতে পারবে না। ওনারা কেউই বাড়িতে থাকেন না। মাঝে মাঝে এসে ২-১ ঘন্টা থেকে আবার চলে যান। ঘরের ভিতর সবসময় লাইট একটা জ্বালানো থাকে।ফ্রিজও সচল ছিল। আমাদের ধারণা মতে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে এ ঘটনা ঘটতে পারে।

মৃত রফিক হাওলাদারের ভাগিনা বিল্লাল হাজী বলেন, আমার মামা স্বপন হাওলাদার ছুটি কাটিয়ে ৯ মাস হলো প্রবাসে আছেন।

তিনি আমাকে কল দিয়ে বলেন যে, কি হয়েছে বিষয়টি দেখার জন্য। আমি উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টির সাথে জড়ালে তিনি আমার বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ করেন। আমার সাথে শাহীন হাওলাদারকেও জড়ানো হয়। এদিকে মামলার প্রধান আসামী আকলিমা বেগম বলেন, আমার ঘরের সাথেই ওনাদের ঘর।

ঘটনারদিন রাতে আমি ঘর থেকে ওনাদের ঘরের কিছুর আওয়াজ শুনতে পেয়ে বাহিরে বের হয়ে দেখি ঘরের মাঝখান থেকে আগুন বের হচ্ছে। তাৎক্ষণিক আমি ডাক চিৎকার দিলে এলাকার লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি আমাকে ও আমার স্বামীকে আসামী দিয়েছেন। অথচ আমার স্বামী গত ৯ মাস যাবত প্রবাসে আছে। তিনি কিভাবে এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত হতে পারে।

আকলিমা বেগম আরো বলেন, তারা মা ছেলে মিলে প্রায় সময় আমাদের উপর অত্যাচার করে আসছেন। রাত বিরাতে বাড়িতে এসে আমাদেরকে গালিগালাজ করেন এবং হত্যার হুমকিও দিয়ে যায়। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে আমাদের ঘরের চারপাশে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে বাধ্য হই। তারা কোন প্রকৃতির লোক এলাকার কম বেশি সবাই জানে। তাদের ঘরে কিভাবে আগুন লেগেছে এলাকার কেউই জানে না অথচ ওনারা সন্দেহ করে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়। আমরা এর থেকে মুক্তি চাই।

উক্ত অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে মামলার বাদী ফরিদা বেগমের পরিবারের কেউ বাড়িতে না থাকায় এবং তার ছেলের মোবাইল নম্বরে শুক্রবার রাতে একাধিকবার কল দিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সম্পর্কিত খবর