
চাঁদপুর খবর রিপোর্ট :চাঁদপুরে ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির নামে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন প্রতারণা চালিয়ে আসা একটি চক্রের আরও চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। নড়াইল জেলার কালিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযান শেষে ৭ সেপ্টেম্বর চাঁদপুরে ফিরে আসে পুলিশের দল। পরে আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তার চারজনকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০টি মোবাইল ফোন, ৪৬টি সিম কার্ড—যার মধ্যে দুটি ভারতীয় সিম—এবং নগদ ৭৫ হাজার টাকা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।
চাঁদপুর জেলা পুলিশের পুলিশ মিডিয়া সেল জানায়, প্রতারক চক্রটি ফেসবুক থেকে বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি সংগ্রহ করে সেগুলো এডিট করে ভুয়া ফেসবুক পেজ ও হোয়াটসঅ্যাপ আইডি খুলত। এসব পেজে ইলিশ মাছ, ফার্নিচার, কলম, জুতা, বেবি টয় ও অনলাইন চাকরিসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির আকর্ষণীয় ভিডিও, শর্ট রিল ও ভুয়া কমেন্ট তৈরি করে প্রচারণা চালানো হতো।
লোভনীয় অফার ও বিজ্ঞাপন বুস্ট করে এসব পোস্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। ক্রেতারা যোগাযোগ করলে প্রতারকরা অন্য ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো কিংবা অডিও কলের মাধ্যমে নিজেদের প্রকৃত ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিত। এ সময় নাহিদ, জাবেদ, সনি মিয়া, হাজী আব্দুল কাদের ও সাকিবসহ বিভিন্ন ভুয়া নাম ব্যবহার করত তারা।
প্রতারণাকে বিশ্বাসযোগ্য করতে চক্রটি ভুয়া ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ট্রেড লাইসেন্স দেখাত এবং নকল ভাউচার তৈরি করত। পরে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুত পণ্য সরবরাহ না করে অর্থ আত্মসাৎ করত।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মামলা নং-১১১, জিআর-৯৭৮/২৬, তারিখ ২১ আগস্ট ২০২৬ এবং মামলা নং-০৫, জিআর-১০২৪/২৬, তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬। মামলাগুলোতে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারাসহ দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলা দুটির সূত্র ধরে চাঁদপুর জেলা পুলিশের এলআইসি শাখা ও ডিবির তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করা হয়। পরে নড়াইল জেলার কালিয়া থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নড়াইল জেলার কালিয়া থানাধীন আমতলা-কলামনখালী এলাকার ফুরকান শেখ (২৫), নওয়াগ্রাম শেখবাড়ি এলাকার চান মিয়া ওরফে চান্দু শেখ (২৫), একই এলাকার রাতুল হোসেন নবেল (২৫) এবং শহিদুল শেখ (২৩)।
পুলিশের অভিযান পরিচালনাকারী দল ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে গ্রেপ্তারের পর নড়াইল এলাকায় অভিযান অব্যাহত রাখে। পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর অভিযান শেষ করে চাঁদপুরে ফিরে আসে। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আজ ৮ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার চারজনকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, একই ঘটনায় এর আগে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। নতুন চারজনসহ এ পর্যন্ত মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ। অনলাইনে প্রতারণা রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশের পরামর্শ: অনলাইনে কোনো পণ্য কেনার আগে বিক্রেতার পরিচয়, ঠিকানা ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই করে লেনদেন করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।




