দেশে প্রথমবার ‘ইন্টারন্যাশনাল এআই বিল্ডার্স কংগ্রেস ২০২৬’ আয়োজন করছে ড্যাফোডিল

চাঁদপুর খবর রিপোর্ট : ‘যেখানে বিশ্বের এআই বিল্ডাররা তৈরি করে আগামীর প্রযুক্তি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ইন্টারন্যাশনাল এআই বিল্ডার্স কংগ্রেস ২০২৬’। ক্লাউডক্যাম্প বাংলাদেশের আয়োজনে এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় আগামী ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার সাভারের বিরুলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গ্রীন গার্ডেনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কংগ্রেসের বিস্তারিত তুলে ধরেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আর. কবির। আয়োজকরা জানান, সকাল ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এ আয়োজন সবার জন্য উন্মুক্ত এবং অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

বর্তমানে এর রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এটি কোনো সাধারণ হ্যাকাথন বা সম্মেলন নয়; বরং ছয় মাসব্যাপী একটি ‘বিল্ডার জার্নি’। জুলাই মাসে শুরু হওয়া এ যাত্রার সমাপ্তি হবে ২৬ ডিসেম্বর একদিনের গ্লোবাল শোকেসের মধ্য দিয়ে। এতে ৫ হাজারেরও বেশি এআই বিল্ডারকে একই ছাদের নিচে সমবেত করার লক্ষ্য রয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা ১১টি গ্লোবাল ডোমেইন ও ৫৫টি চ্যালেঞ্জ ট্র্যাকের মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজ করবেন। কংগ্রেসের প্রতিযোগিতা দুটি ভাগে বিভক্ত। প্রথমটি ‘টিম-বিল্ট প্রোডাক্ট কম্পিটিশন’। এতে ৩ থেকে ৫ সদস্যের দল ছয় মাস ধরে একটি প্রোডাকশন-রেডি এআই প্রোডাক্ট তৈরি করবে। দ্বিতীয়টি ‘এআই-নেটিভ সিঙ্গেল প্রম্পট চ্যালেঞ্জ’। এ প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত ৫০০ জন অংশগ্রহণকারী একটি মাস্টার প্রম্পট ব্যবহার করে ইভেন্টের দিন সরাসরি এক ঘণ্টার মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ এন্টারপ্রাইজ-গ্রেড অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করবেন। আয়োজকদের মতে, এটি এআই-অ্যাসিস্টেড সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভবিষ্যতের একটি বাস্তব প্রদর্শনী হবে।

এ ছাড়া ‘অপরচুনিটি কানেক্ট’ নামে সারা বছরব্যাপী একটি প্ল্যাটফর্ম থাকবে। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা রিক্রুটার, বিনিয়োগকারী ও উচ্চশিক্ষা পরামর্শদাতাদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত ওয়ান-টু-ওয়ান বৈঠকের সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে চাকরি, ইন্টার্নশিপ, বিনিয়োগ ও বৃত্তির সুযোগ উন্মুক্ত হবে।

প্রতিটি দলকে অভিজ্ঞ মেন্টরদের মাধ্যমে প্রজেক্টের দিকনির্দেশনা, আর্কিটেকচার রিভিউ ও উপস্থাপনা প্রস্তুতিতে সহায়তা করা হবে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের (এনআরবি) অংশগ্রহণের মাধ্যমে দলগুলো বৈশ্বিক মানের অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ পাবে।

ইভেন্টের দিন বিশেষজ্ঞ বিচারক প্যানেল উদ্ভাবন, কারিগরি দক্ষতা, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, বৈশ্বিক স্কেলেবিলিটি এবং দায়িত্বশীল এআই এই পাঁচটি মানদণ্ডে প্রতিযোগীদের প্রকল্প মূল্যায়ন করবেন। বিজয়ীদের জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকা নগদ পুরস্কারের পাশাপাশি ট্রফি ও সম্মাননা, সার্টিফিকেট অব অ্যাচিভমেন্ট, এক্সক্লুসিভ পার্টনার বেনিফিট, মিডিয়া রিকগনিশন এবং গ্লোবাল শোকেসের সুযোগ থাকছে। সংবাদ সম্মেলনে ক্লাউডক্যাম্প বাংলাদেশের ফাউন্ডার ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহদী-উজ-জামান বলেন, ‘ইন্টারন্যাশনাল এআই বিল্ডার্স কংগ্রেস কোনো একদিনের আয়োজন নয়—এটি ছয় মাসের একটি যাত্রা, যেখানে তরুণরা শেখে, তৈরি করে এবং নিজেদের গ্লোবাল বিল্ডার হিসেবে প্রমাণ করে।

আমরা চাই বাংলাদেশ শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, বরং বিশ্বমানের এআই বিল্ডারদের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে পরিচিত হোক।’ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আর. কবির বলেন, ‘ইন্টারন্যাশনাল এআই বিল্ডার্স কংগ্রেসের সহ-আয়োজক হতে পেরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি গর্বিত। এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয় দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক মানের একটি শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার একটি সুযোগ। এখানে তারা সরাসরি বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।’ সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ফখরে হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন ক্লাউডক্যাম্প বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ মাহাদী উজ্জামান ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. নাদির বিন আলী। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি অনুষদের সহযোগী ডিন অধ্যাপক ড. ফারনাজ নূরীন নূর, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শেখ রাশেদ হায়দার নূরী, কম্পিউটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের প্রধান সারওয়ার হোসেন মোল্লা, স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক প্রফেসর ড. এবিএম কামাল পাশা, ক্লাউডক্যাম্প বাংলাদেশের পরিচালক আরিফুল হাসান অপু ও সাধারণ সম্পাদক শহীদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ কংগ্রেসের কৌশলগত লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এআই-নেটিভ বিল্ডার, টিম ও সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

আয়োজনটির প্লাটিনাম পার্টনার আনোয়ার গ্রুপ, সিলভার পার্টনার রোবাস্ট, ক্রিয়েটিভ পার্টনার সিনবর্ন এবং টেকনোলজি পার্টনার হিসেবে রয়েছে এডব্লিউএস, লাভেবল, ক্যারিয়ার ক্যানভাস ও অ্যাস্ট্রোনাস টেক।
বিস্তারিত তথ্য ও রেজিস্ট্রেশনের জন্য cloudcampbd.com/ai-builders-congress ওয়েবসাইটে ভিজিট করা যাবে।

সম্পর্কিত খবর