
স্টাফ রিপোর্টার:চাঁদপুর সদর উপজেলাকে মাদকমুক্ত করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সদর মডেল থানা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক সেবন ও মাতলামির অভিযোগে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে চাঁদপুর সদর উপজেলার ২ নম্বর আশিকাটি ইউনিয়নের আশিকাটি চাঁদখার বাজার ও বাবুরহাট এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাইট কিলো-০১ ডিউটিতে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা খবর পান, আশিকাটি ইউনিয়ন পরিষদের পূর্ব পাশে সড়কের ওপর কয়েকজন ব্যক্তি মাদকদ্রব্য সেবন করে অরাজকতা সৃষ্টি করছেন। বিষয়টি চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়েজ আহমেদকে জানানো হলে তাঁর নির্দেশনায় এসআই মো. মনির মিয়ার নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ঘটনাস্থল ঘেরাও করে মাদক সেবন ও মাতলামির অভিযোগে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—আশিকাটি চাঁদখার বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের পারভেজ মৃধা (৩২), আশিকাটি ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য ও ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. আশরাফুল খান (৩৫), আশিকাটি গ্রামের মো. শরীফ গাজী (৩২), সিএনজি চালক গিয়াস উদ্দিন গাজী গেসু (৩০), রিয়াদ হোসেন গাজী (২৪), মো. ফারুক মল (৪৫) ও মো. রাকিব (৩০)।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মাদক সেবনের কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ডোপ টেস্ট করানো হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসারের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদনে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের শরীরে অ্যাম্পেটামিন (AMP) ও বেনজোডায়াজেপিনস (BZO)-এর উপস্থিতি পজিটিভ পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এসআই মো. মনির মিয়া বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করেন। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে, মাদক সেবনের অভিযোগে ৭ জনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। মাদক নির্মূলে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।




