
মনিরুল ইসলাম মনির :চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার শ্রমিক ফয়সাল (১৯) সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীতে বালুবাহী বাল্কহেডডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত ফয়সাল মতলব উত্তর উপজেলার কাশিমনগর গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে। বাল্কহেডটির মালিকও মতলব উত্তর উপজেলার বাসিন্দা মো. খোরশেদ মোল্লা।তরুণ শ্রমিক ফয়সালের প্রাণহানির ঘটনায় তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
ইতিমধ্যেই যমুনা সেতুর উত্তর পাশে নদী থেকে ফয়সালের লাশ উদ্ধার করে উদ্ধারকারী দল। এর আগে শনিবার সন্ধ্যারাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বড় কয়ড়া এলাকায় বালুবাহী বাল্কহেডটি প্রবল স্রোতের কবলে পড়ে ডুবে যায়।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার সময় বাল্কহেডটিতে পাঁচজন শ্রমিক ছিলেন। তাদের মধ্যে তিনজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। ফয়সাল ও মোরশেদ পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন।
ঘটনার পরপরই নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। নদীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানোর একপর্যায়ে সোমবার ফয়সালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে একই ঘটনায় নিখোঁজ নোয়াখালীর মাইজদীর ইঞ্জিন মিস্ত্রি মোরশেদ (২৫) এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে যমুনায় নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক শরীফুল ইসলাম বলেন, নদীর প্রবল স্রোতের কারণে বালুবাহী বাল্কহেডটি ডুবে যায়। নিখোঁজ দুই শ্রমিককে উদ্ধারে ঘটনার পর থেকেই যমুনার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ফয়সালের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, মোরশেদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ সদর ও কাজিপুর উপজেলার যমুনা নদীর পাঁচটি সরকারি বালুমহাল ইজারা নিয়েছেন এস কনস্ট্রাকশনের মালিক হাজী মো. আব্দুস সাত্তার। প্রায় ১৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকায় ইজারা নেওয়া এসব বালুমহালের মধ্যে রয়েছে সদরের কৈগাড়ী-দোরতা, শিমলা, জিয়ারপাড়া, চণ্ডালবয়ড়া ও কাজিপুর। এসব বালুমহাল থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করে শত শত বাল্কহেডে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।




