হাজীগঞ্জে অনুমতি ছাড়া পুকুর ভরাট করায় ড্রেজারের পাইপ ধ্বংস

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে অনুমতি ছাড়া পুকুর ভরাটের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে ড্রেজারের পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাজীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বলাখাল এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওমর সানী আকন।

স্থানীয় এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)। পরিদর্শনকালে একটি পুকুর ভরাট এবং অপর একটি পুকুর ভরাটের উদ্দেশ্যে ড্রেজারের পাইপ স্থাপনের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে ঘটনাস্থলে ড্রেজার ব্যবহারকারী কাউকে পাওয়া যায়নি।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশনায় সেখানে স্থাপিত ড্রেজারের পাইপগুলো ভেঙে ধ্বংস করা হয়। উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ বলাখাল এলাকার মৃত স্বদেশ নারায়ণ সাহার ছেলে অক্ষয় কুমার সাহা এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে তিনি একই এলাকার রতন কুমার সাহা, প্রবীর সাহা, ধেররা এলাকার জাহাঙ্গীর আলম ও মকিমাবাদ এলাকার কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পুকুর ভরাটের অভিযোগ আনেন। অভিযোগকারী অক্ষয় কুমার সাহার দাবি, বলাখাল মৌজার বিএস ১/১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত বিভিন্ন দাগের পুকুর, ডোবা ও নাল ভূমি তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা পৈতৃক ওয়ারিশ সূত্রে মালিক ও দখলকার হিসেবে ভোগ করে আসছেন।

এর মধ্যে ৩৪৮৩ নম্বর দাগের পুকুর, ৩৪৮৪ নম্বর দাগের ডোবা এবং ৫৮১৮, ৫৮৩৩ ও ৫৮৩৪ নম্বর দাগের নাল ভূমি নিয়ে রতন কুমার সাহা ও প্রবীর সাহার সঙ্গে চাঁদপুরের সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা নং-৩১৭/২০২১ চলমান রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই বিরোধীয় সম্পত্তিতে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় বিবাদীরা ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু ফেলে পুকুর ভরাটের চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে তাকে হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন অক্ষয় কুমার সাহা। এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওমর সানী আকন বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে একটি পুকুর ভরাট এবং অপর একটি পুকুর ভরাটের উদ্দেশ্যে ড্রেজারের পাইপ স্থাপনের সত্যতা পাওয়া গেছে। সেখানে ড্রেজার ব্যবহারকারী কাউকে পাওয়া যায়নি।

এ কারণে স্থাপিত পাইপগুলো ধ্বংসের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী জলাধার, নালা বা পুকুর ভরাট করা নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এ কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ড্রেজারের পাইপগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। তবে অভিযোগকারীদের সম্পত্তিগত বিরোধের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন।

ওই বিরোধের নিষ্পত্তি আদালতের মাধ্যমেই হবে।” প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুমতি ছাড়া পুকুর, জলাধার বা নাল ভূমি ভরাটের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সম্পর্কিত খবর