চাঁদপুরে রেলওয়ের জমি দখলের মহোৎসব!

স্টাফ রিপোর্টার: চাঁদপুর শহরে সরকারি সম্পত্তি রেলওয়ের জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে যেন চলছে প্রতিযোগিতা। শহরের বড়স্টেশন থরকে মিশন রোড, দর্জিঘাট, মির্জাপুর হয়ে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের শাহাতলি পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে রেলওয়ের জমি ও খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও বসানো হচ্ছে পিলার, কোথাও নির্মাণ করা হচ্ছে একাধিক শাটারের দোকান। আর এসব নির্মাণকাজ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

সরেজমিন অনুসন্ধানে মিলেছে রেলওয়ের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের এমন একাধিক চিত্র। শহরের মিশন রোড এলাকায় রেলওয়ের জায়গায় জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইমরান খান শাওন জায়গা ইট, বালি, সিমেন্ট ও রড দিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করার সময় রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ও রেলওয়ে জিআরপি পুলিশ গিয়ে স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলে। স্থাপনা নির্মানকারী মো. শাওন ও মো. শাহ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

রেলওয়ের জায়গায় স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা বৈধ বরাদ্দ থাকা প্রয়োজন। কিন্তু মিশন রোডের ওই স্থাপনার ক্ষেত্রে এমন কোনো অনুমোদন বা বরাদ্দের নথি সরেজমিনে পাওয়া যায়নি।

শহরের মিশন রোড এলাকায় রেলওয়ের খালের উপরে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগটি আরও উদ্বেগের। রেলওয়ের খালে আনোয়ার ও তার বোন হাসিনা নতুন একটি স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। সেখানে ১২টি পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। কোনো খাল বা পানি চলাচলের পথ সংকুচিত কিংবা বন্ধ হয়ে গেলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা যেখানে এমনিতেই নানা সমস্যায় জর্জরিত, সেখানে খাল দখলের অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি শুধু রেলওয়ের সম্পত্তি রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি জনদুর্ভোগের কারণও হতে পারে।

রেলওয়ের জমি দখলের অভিযোগ শুধু মিশন রোডেই সীমাবদ্ধ নয়। পৌরসভার ১৩ন ওয়ার্ডের মির্জাপুর এলাকায় নতুন নির্মিত সড়কের পাশে রেলওয়ের জায়গায় ১১ শাটারবিশিষ্ট বড় একটি দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, রেলওয়ের জায়গা দখল করেই স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছে। স্থাপনাটি ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের প্রস্তুতি হিসেবেই নির্মাণ করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে হাবিব নামে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হয়। তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তবে তার বড় ভাই এনায়েত জানান, রেলওয়ের কাছে বাণিজ্যিকভাবে জায়গা ব্যবহারের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
কিন্তু এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন—আবেদন করা হয়েছে, নাকি অনুমোদনও পাওয়া গেছে?
আবেদন এবং অনুমোদন এক বিষয় নয়। তাই রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট নথিতে ওই জায়গার বরাদ্দ, ইজারা কিংবা স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদন রয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।

শহরের দর্জিঘাট এলাকাতেও রেলওয়ের জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলওয়ের জায়গা ব্যবহার করে স্থাপনা নির্মাণ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রবণতা বাড়ছে।

এভাবে একের পর এক স্থাপনা গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে রেলওয়ের বিশাল সম্পত্তি ধীরে ধীরে বেদখলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরকারি সম্পত্তি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব কিংবা অর্থবলের কারণে কোনো ব্যক্তি সরকারি জায়গা দখলের সুযোগ পেলে তা শুধু রেলওয়ের সম্পত্তির ক্ষতি নয়—রাষ্ট্রের সম্পদের ওপর সরাসরি চাপ।

তাই চাঁদপুরে রেলওয়ের জায়গা দখলের অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, বৈধ কাগজপত্র যাচাই এবং অবৈধ দখল চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এবিষয়ে চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. মারুফ হোসেন জানান, রেলওয়ে জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মানের কোন অভিযোগ পেলে সাথে সাথে আমরা উচ্ছেদ ও মামলা গ্রহণ করি।

সম্পর্কিত খবর