
চাঁদপুর খবর রিপোর্ট : চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫ নম্বর রামপুর ইউনিয়নের আলগী মালেক বেপারী বাড়ির বাসিন্দা মনির হোসেন বেপারীকে (৩৮) স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে।
এ ঘটনায় গতকাল ২৫ অক্টোবর (রোববার) চাঁদপুর সদর মডেল থানায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী নুরুন্নাহার আক্তার বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারভুক্ত একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—১. আব্দুর রহমান মিজি (২২), পিতা—মফিজ মিজি; ২. লিমন (২৫), পিতা—অজ্ঞাত; ৩. ঝরনা বেগম (৫০), স্বামী—মফিজ মিজি; ৪. মফিজ মিজি (৬০), পিতা—মৃত কালু মিজি; ৫. ইয়াছিন মিজি (৩৫), পিতা—মফিজ মিজি। তাঁরা সবাই দক্ষিণ আলগী, ডাকঘর—আলগী পাঁচগাঁও, ৯ নম্বর ওয়ার্ড, ৫ নম্বর রামপুর ইউনিয়ন, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুরের বাসিন্দা। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫–৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত ২৪ অক্টোবর চাঁদপুর সদর মডেল থানাধীন ৫ নম্বর রামপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ আলগীতে বাদীর বসতঘরের পূর্ব পাশে বাড়ির চলাচলের রাস্তার ওপর এ ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর। অভিযোগটি এজাহারভুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আওলাদ হোসেন জানান, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। একজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিবাদীরা স্থানীয় উচ্ছৃঙ্খল, লাঠিয়াল, মাস্তান ও খারাপ প্রকৃতির লোক বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী বাদীর স্বামী। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা প্রতিনিয়ত এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করাসহ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শক্তির মহড়া দিয়ে বেড়ায়। তাদের এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে তারা মারধরসহ খুন-জখমের হুমকি দিয়ে আসছিল।
এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বিবাদীরা হাতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাদীর বসতবাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করতে থাকে। এ সময় বাদীর স্বামী তাদের অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করতে বাধা দিলে বিবাদীরা তাঁকে মারধরের ভয়ভীতিসহ হুমকি-ধমকি দেয়।
পরবর্তী সময়ে ঘটনার নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে ১ নম্বর সাক্ষী বাড়িতে প্রবেশ করার সময় বিবাদীরা অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বেআইনিভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় ও ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভুক্তভোগীর পথরোধ করে। এরপর তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ১ নম্বর আসামি তাঁর হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীর বুক, পিঠ ও পেটে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর কাটা ও রক্তাক্ত জখম করেন। এতে তাঁর পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়। ২ ও ৩ নম্বর আসামি তাঁদের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে ভুক্তভোগীর হাত-পায়ে আঘাত করে নীলাফোলা জখম করেন। ৪ ও ৫ নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা অন্য বিবাদীরাও তাঁকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় বিবাদীরা ভবিষ্যতে আরও মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে দ্রুত চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসক তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।



