চাঁদপুরে চাল পাচারের ঘটনায় লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শামীম গ্রেফতার

চাঁদপুর খবর রিপোর্ট: চাঁদপুরে চাল পাচারের ঘটনায় লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) গোলাম মোস্তফা শামীমকে গ্রেফতার করেছে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ।

রোববার (১১ অক্টোবর) চাল পাচারের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পুলিশ তাকে রাতে গ্রেফতার করে বলে জানা গেছে।

এর আগে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চাল পাচারের ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা লক্ষীপুরের প্রশাসক চাঁদপুর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকতার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

তবে চাল পাচারের ঘটনায় গোলাম মোস্তফা শামীমের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা, কী পরিমাণ চাল পাচার হয়েছে এবং এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছি এলাকাবাসী।

প্রসঙ্গত : চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নং লক্ষীপুর মডেল ইউনিয়নের সচিব (প্রশাসনিক কমকতা) গোলাম মোস্তফা শামীমের বিরুদ্ধে জেলেদের সরকারি ৫ টন চাল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল ১১ অক্টোবর বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি টপ অব দ্যা নিউজে পরিণত হয়। তদন্তে নামে প্রশাসন। অবশেষে দিনভর নাটকীয়তা শেষে পিকআপসহ সেই চাল উদ্ধার করে চাঁদপুর সিএসডি গোডাউনে নিয়ে আসেন সদর এসিল্যান্ড । এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানাযায়,মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা চাল বিতরণের কথা ছিল সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নে। কিন্তু সেই চাল ইউনিয়নে বিতরণ না করে এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেন ইউপি সচিব শামিম।
পরে চালগুলো লাকসামে নিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে একটি মিনি পিকআপে করে রওনা হন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে চাল উদ্ধারে তৎপর হয় প্রশাসন।

প্রশাসনের তৎপরতার পর গাড়িটি হাজীগঞ্জ থেকে ঘুরিয়ে চাঁদপুর শহরের বিপণীবাগ এলাকায় নিয়ে আসা হয়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার ৯৩০ কেজি চালসহ মিনি পিকআপটি জব্দ করেন সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা প্রত্যয় হাসেম।

সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড) প্রত্যয় হাসেম জানান, জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা চাল লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে নেওয়ার কথা থাকলেও তা অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে। এঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

পিকআপ চালক শাহাদাত জানায়, আমাকে বলছে চাল নিয়ে লাকসামে যাওয়ার জন্য। এখন হাজীগঞ্জ থেকে প্রশাসন আবার আমাদেরকে ফেরত নিয়ে এসেছে ।

লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা শামীম দৈনিক চাঁদপুর খবরকে জানান, “আমি ডিও কেটে পরিষদে চলে যাই। একটি চক্র আমাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে এ কাজ করেছে।” এর আগেও তিনি ৪ টন চালের ডিও কেটে নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তবে প্রশাসনিক কর্মকর্তার যোগসাজশ ছাড়া কীভাবে চাল বের হলো—এমন প্রশ্নের সুস্পষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি তিনি।

এর আগেও তার বিরুদ্ধে চাল অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে । ঘটনার পর থেকে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। উদ্ধার করা চাল পুনরায় কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগার সিএসডি গোডাউনে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি চাল কীভাবে নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

সম্পর্কিত খবর