মতলবের বহরী আড়ং বাজারের ব্যবসায়ী সেলিম তপাদারের উপর হামলা

চাঁদপুর খবর রির্পোট: চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিন উপজেলার বহরী আড়ং বাজারে মেসার্স তপাদার এন্টারপ্রাইজ দোকানের মালিক সেলিম তপাদার এর উপর মাদক ব্যবসায়ী কর্তৃক হামলার ঘটনায় মতলব দক্ষিন থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।হামলায় সেলিম তপাদার ও তার স্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছে ।

হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি । আমি হুমকির সম্মুখীন । আমি ব্যবসা করতে পারছি না । বিবাদীপক্ষ আমাকে অনবরত হুমিক দিচ্ছে ।

গত ৫দিনেও অভিযোগটি এজহারভুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে ।

এ ব্যাপারে গতকাল ২৯ নভেম্বর তদন্তকারী কমকতা এসআই সাইফুল দৈনিক চাঁদপুর খবরকে জানান, অভিযোগ তদন্ত চলছে,অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে । । মামলাটি এজহার করা হবে । দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার করা হবে ।

২৫নভেম্বর ভিকটিম সেলিম তপাদার এর স্ত্রী নুর নাহার আক্তার (৩২), স্বামী-সেলিম তপাদার, হাল সাং-বহরী, পোঃ নেছার আড়ং বাজার, থানা-মতলব দক্ষিণ, জেলা-চাঁদপুর, স্থায়ী সাং-হামানকদ্দি, পোঃ শাহাতলী, থানা-চাঁদপুর সদর, জেলা-চাঁদপুর বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।

এতে আসামী করা হয় ১। জহির মিজি (৩৮), ২। মনির মিজি (৪২), পিতা-মৃত ফজলুল হক মিজি উভয় সাং-বহরী, পোঃ নেছার আড়ং বাজার, থানা-মতলব দক্ষিণ, জেলা-চাঁদপুর।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, ভিকটিম বিগত ১০ বছর যাবত স্থাণীয় বহরিং আড়ং বাজারে, শাস্তি বাজার রোড, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুরে মেসার্স তপাদার এন্টারপ্রাইজ নামক দোকান দিয়ে রড, সিমেন্টের ব্যবসা করে আসছে। আমি আমার স্বামীর সাথে বাজারের ভিতরে বাসা ভাড়া করিয়া (স্থাণীয় শফিক তালুকদার ঘরে) স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে বসবাস করিয়া আসিতেছি। আসামীগন স্থাণীয় এলাকার পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। আসামীগন আমার স্বামীর সেনেটারী দোকানের সামনে আসিয়া মাদক সেবন ও বিক্রি করার জন্য আমি ও আমার স্বামী আসামীগনকে উক্ত স্থানে মাদক সেবন ও বিক্রি করিতে নিষেধ করিলে আসামীগণ ইতিপূর্বে বহুবার আমার ও আমার স্বামীকে মারধর করিয়াছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ১ম ঘটনার দিন, তারিখ, সময় ও স্থানে অর্থাৎ গত ২৫/১১/২০২৫ ইং তারিখ রোজ-মঙ্গলবার, সকাল অনুমান ৯.৩০ ঘটিকার সময় ১নং আসামী হাতে লাঠিসোটা নিয়া ঘটনারস্থানে পূর্বের শত্রুতা জের ধরিয়া আমার স্বামী ১নং সাক্ষীর সহিত কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বিবাদী আমার স্বামী ১নং সাক্ষীকে এলোপাথাড়ী কিল, ঘুষি, লাথি মারিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। আমার স্বামী ১নং বিবাদী কবল হইতে কৌশলে পালাইয়া আমার বসত ঘরে আসিলে ১ ও ২নং বিবাদী হাতে ছুরি ও লাঠি নিয়া আমার স্বামীর পিছু পিছু দৌড়াইয়া আমার ভাড়া বসত ঘরে অবৈধ অনুপ্রবেশ করিয়া ১নং বিবাদী তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়া আমার স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে পেট বরাবর ঘাই মারিলে আমার স্বামী তার বাম হাত দিয়া ঘাই ফিরাইতে গেলে উক্ত ঘাই আমার স্বামীর বাম হাতে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়, যাতে ৩টি সেলাই দিতে হয়।

১নং বিবাদী পুনরায় তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে ঘাই মারিলে উক্ত ঘাই আমার স্বামী ১নং সাক্ষীর ডান কাঁধে লাগিয়া গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়, যাতে ১টি সেলাই লাগে। আমি ১নং বিবাদীর কবল থেকে আমার স্বামীকে উদ্ধারের চেষ্টাকালে ১নং বিবাদী তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘাই মারিলে উক্ত ঘাই আমার বাম কাঁধে লাগিয়া গুরুতর ক্ষত রক্তাক্ত জখম হয়, যাতে ৫টি সেলাই লাগে। আমি ও আমার স্বামী মাটিতে পড়িয়া গেলে বিবাদীদ্বয় তাহাদের হাতে থাকা লাঠি দিয়া আমাকে ও আমার স্বামীকে এলোপাতাড়ি কিল,

ঘুষি ও লাথি মারিয়া শরীরের বিভিন্নস্থানে নীলাফুলা জখম করে। ডাক চিৎকারে ৩নং সাক্ষী আগাইয়া আসিয়া আমাদেরকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখিয়া আমাকে ও আমার স্বামীকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টাকালে ১ ও ২নং বিবাদী বাঁধা দেয়। এক পর্যায়ে অপরাপর সাক্ষীগণসহ আশপাশের লোকজন আগাইয়া আসলে বিবাদীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় বিবাদীদ্বয় আমাকে ও আমার স্বামীকে হুমকি দিয়া বলে যে, আমি বা আমার পরিবারের কেহ যদি উক্ত ঘটনার বিষয়ে কোন মামলা দায়ের করি বা আইনি প্রতিকার চাই, তবে বিবাদীরা আমাদেরকে প্রাণে হত্যা করবে মর্মে হুমকিসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সহাযোগিতায় আমি ও আমার স্বামীকে নং ণেরী চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। আমাকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার ভার্ত করায়।

সম্পর্কিত খবর