
চাঁদপুর খবর রিপোর্ট : অবশেষে চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট এলাকায় ফ্ল্যাট বাসায় চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় নিরাপরাধ সন্দেহজনকভাবে আটক দু’শিক্ষার্থী ১। রিমন হোসেন রকি খান (২০) ও ২। আরাফ উদ্দিন প্রকাশ নয়ন (২০) জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। সেই সাথে দুইছাত্রের ৫দিনের রিমান্ড আবেদনও না-মন্জুর করেছে আদালত।
গতকার রোববার (২৬ অক্টোবর ২০২৫খ্রি.) চাঁদপুরের আদালতে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। মামলার আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন : চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জসিম উদ্দিন মেহেদী হাসান ।
জামিনে মুক্তি দু’শিক্ষার্থী চাঁদপুর সদরের ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউপির ৪নং ওয়ার্ডের শাহতলী গ্রামের ১। রিমন হোসেন রকি খান (২০) পিতা-সিরাজুল ইসলাম খান , ২। আরাফ উদ্দিন প্রকাশ নয়ন (২০), পিতা-কাশেম পাটোয়ারী। রিমন হোসেন রকি খান কলেজে পড়ে। অপর ছাত্র আরাফ উদ্দিন প্রকাশ নয়ন শাহতলী কামিল মাদরাসার ছাত্র।
গত ২১ অক্টোবর ২০২৫, সন্ধ্যা প্রায় সাতটা। ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের পাশে একটি ভবনের চতুর্থ তলায় চুরি হয়। ঘটনার পর পুলিশ ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শাহমোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বড় শাহতলী গ্রামের দুই শিক্ষার্থী রিমন ও কাশেম পাটোয়ারীর ছেলে আরাফ উদ্দিনকে আটক করে। তবে ঘটনাটা এত সহজ ছিল না। ফুটেজে দেখা যায়, রিমন ও আরাফ তখন ওই এলাকায় বাসা ভাড়া খুঁজছিল।
তারা এক বাড়িতে গিয়ে কলিং বেল বাজায়, কিন্তু সাড়া না পেয়ে চলে আসে। ঠিক সেই মুহূর্তে, উপরের ফ্ল্যাটে চোর আশিক চুরি শেষ করে নিচে নেমে যায়! দুটো ঘটনাই একসাথে ক্যামেরায় ধরা পড়ে, আর সেই কাকতালীয় মুহূর্তেই বদলে যায় সবকিছু। ফুটেজ দেখে পুলিশ দ্রুত তাদের সন্দেহভাজন মনে করে গ্রেফতার করে। কিন্তু পরবর্তীতে আশেপাশের অন্য সিসি ক্যামেরা বিশ্লেষণ করে দেখা যায় রিমন ও আরাফ একাধিক বাসায় ভাড়া নিতে গিয়েছিল, কোনো অপরাধে তারা জড়িত নয়। এলাকাবাসীও জানিয়েছে, দুই যুবক সম্পূর্ণ নিরপরাধ।
তারা শুধু ভাড়া খুঁজছিল, কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে চোরের সাথে একই ফ্রেমে পড়ে যায়। এখন পুলিশ বলছে, তদন্ত চলছে, প্রকৃত চোরকে শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিমন ও আরাফের বিষয়ে মানবিক বিবেচনা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। এদিকে এলাকাবাসী ও বাড়ির মালিক স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন“এই দুই যুবক নির্ধোষ, তাদের মুক্তি দেওয়া হোক।”
আটককৃতদের আপন ভাই জানান, আমার ভাই কাউকে না জানিয়ে বিবাহ করায় বাসা ভাড়ার উদ্দেশ্যে ওই ফ্লাটে যায়। বাসার মালিকের সাথে ভাড়া চুক্তি হয়। কিন্তু আমার ভাইকে চুরির কাল্পনিক অভিযোগে সন্দেহজনকভাবে আটক করে কারাগারে পাঠায়। এটি আমাদের পরিবারের সম্মান হানির ঘটনা ঘটে।
তবে এঘটনায় আসল চোর এখনো পলাতক!। ফ্ল্যাট বাসার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ধারণ করা ভিডিও দেখে উল্টে যায় পুরো তদন্তের দিক। সনাক্তকৃত চোরের বাড়ি ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে। চোরের নাম আশিক। তাকে আটক করার উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ।




