
আহমেদ উল্লাহ /মো:শওকত করিম / মহসিন হোসাইন: শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ইউনিসেফ বাংলাদেশের আর্থিক সহায়তায় চাঁদপুর জেলার আটটি উপজেলায় “টাইফয়েড ভ্যাকসিনেশন” কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের পরামর্শ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চাঁদপুর জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় চাঁদপুর সিভিল সার্জন অফিসের সভাকক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
চাঁদপুর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নূর আলম দীন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এরশাদ উদ্দিন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, টাইফয়েড প্রতিরোধে টিকা অত্যন্ত কার্যকর একটি পদক্ষেপ। শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে টিকাদান কার্যক্রমে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. নূর আলম দীন বলেন, চাঁদপুরে টিকাদান কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জনগণকে সচেতন করতে তথ্যভিত্তিক প্রচারণা বাড়াতে হবে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের (প্রচার ও সমন্বয়) পরিচালক ডালিয়া ইয়াসমিন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি রহিম বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক কাদের পলাশ।
বক্তারা বলেন,টাইফয়েড প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়নে জনগণকে সচেতন করতে হবে এবং www.vaxepi.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রদত্ত তথ্যের উপর আস্থা রাখতে হবে। কর্মশালায় ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), গ্যাভি (Gavi) ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
এছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চাঁদপুর জেলা তথ্য অফিসার তপন বেপারী এবং টেকনিক্যাল প্রেজেন্টেশন ও তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন চাঁদপুর সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. মোঃ শাখাওয়াত হোসেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক কাজী শাহাদাত , শরীফ চৌধুরী, শাহাদাত হোসেন শান্ত, আলম পলাশ ,জিএম শাহীন, মোরশেদ আলম, মির্জা জাকির, খোকন কর্মকার, মুনওয়ার কানন, ফারুক আহমেদসহ অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা।
উল্লেখ্য, চাঁদপুরে টাইফয়েড ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন চলবে আগামী ১২ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন বাদে মোট ১৮ কর্মদিবস)। এ কার্যক্রমে জেলার ৮০৫, ২৪৫ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে।
এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ৫৪১,৮৪৪ জন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানবিহীন ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু ২৬৩,৪০১ জন। মোট ৩,৭৫৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ২,৪২৪টি কমিউনিটি টিকা কেন্দ্রে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এতে অংশ নেবে ৩১৩টি টিকাদান টিম, ৬১৬ জন টিকা প্রদানকারী, ৯১৯ জন স্বেচ্ছাসেবী ও ৩০৩ জন প্রথম সারির তদারককারী।




