মির্জাপুরে আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নোটিশ অমান্য করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ!

স্টাফ রিপোর্টার: চাঁদপুর সদর উপজেলার পৌরসভার ১৩নং ওয়ার্ডের মির্জাপুর মৌজায় বিরোধপূর্ণ জমিতে আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার নোটিশ পাওয়ার পরও ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে, মৃত ফজলুল হক গাজীর ওয়ারিশ মোঃ দ্বীন ইসলাম (৬০) এর বিরুদ্ধে। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের মধ্যে এ নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

একই বাড়ির মৃত মন্নান গাজীর ওয়ারিশ মরিয়ম বেগম এর আদালতে দায়ের করা মামলার কাগজপত্র অনুযায়ী জানা যায়, চাঁদপুর সদর উপজেলার ২৮ নং মির্জাপুর মৌজার সি.এস. জরিপের ৩২ নং আর.এস. ও বি.এস. ২৫ নং খতিয়ানভুক্ত সাবেক ১২৩ ও ২৩৭ দাগের জমি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার আরজিতে জমির একটি অংশে বাদী পক্ষের ওয়ারিশগণ ১০ শতাংশ জমির মালিকানা ও দীর্ঘদিনের ভোগদখলের দাবি করা হয়েছে। চাঁদপুর সদর সিভিল জজ আদালতের দেওয়ানী মোকদ্দমা নং ২৮৮৭/২৬ ইং এর বাদী মৃত. আব্দুল মান্নান গাজীর ওয়ারিশ মরিয়ম বেগম ওয়ারিশদের পক্ষে বাদী হয়ে দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট জমিতে তাদের মালিকানা ও দখলীয় স্বত্ব রয়েছে। তাদের এই জমিতে মাটি ভরাট করে বসতঘর নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে জমি ভোগদখলে আছেন।

এ অবস্থায় জমির স্বত্ব ও দখল রক্ষায় আদালতের শরণাপন্ন হন তারা। মামলার নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, বিরোধপূর্ণ জমির বিষয়ে আদালত গত ০৮/১০/২৬ ইং তারিখে চাঁদপুর সদর সিভিল জজ শম্পা ইসলাম এর সাংক্ষরিত নোটিশ এ উভয় পক্ষকে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার সুবিধার্থে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞার নোটিশ পাওয়ার পরও বিরোধপূর্ণ জমিতে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে, যা আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল বলে তারা মনে করছেন।বাদীপক্ষের আবেদনে বিরোধপূর্ণ জমির প্রকৃতি ও অবস্থার পরিবর্তন বন্ধ রাখা, স্থাপনা নির্মাণ এবং জমি হস্তান্তর বা বিক্রি থেকে বিরত রাখার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

এবিষয়ে অভিযোগকারী বাদীর পক্ষে অংশীদার হিসেবে মোঃ হোসেন গাজী বলেন, এই মৌজায় আমাদের বাপ চাচা তিনজনের নামে মোট ৩২ শতাংশ সম্পত্তি রেকর্ড হয়েছে। এই ৩২ শতাংশ সম্পত্তি তিনজনের নামে সমান অংশে বন্টন করলে প্রত্যেকে ১০ শতাংশ ৬৬ পয়েন্ট করে সম্পত্তি ভাগে পায়। কিন্তু আমাদের বাবার নামে ১০ শতাংশ সম্পত্তি বিএস রেকর্ড হয়। আমরা বর্তমানে ওই ১০ শতাংশ সম্পত্তির বাহিরে যেতে চাই না।

আমরা চাই আমাদের রেকর্ড অনুযায়ী ১০ শতাংশ সম্পত্তিই মাফ জরিপ করে আমাদেরকে বুঝিয়ে দেওয়া হোক। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে মাফ জরিপ করে আমাদেরকে আমাদের বাড়ির উত্তর পাশে অবস্থিত রেলওয়ে সম্পত্তির কিছু অংশসহ ৯ শতাংশ ২০ পয়েন্ট জমি বুঝিয়ে দেয়। বর্তমানে আমরা দুই ভাই ৯ শতাংশ ২০ পয়েন্টের মধ্যে ভোগ দখলে আছি।

বাকি সম্পত্তি বুঝিয়ে না দিয়ে নয় ছয় করে মোঃ দ্বীন ইসলাম বিল্ডিং নির্মাণ করে আসছে। রেলওয়ের জায়গাসহ আমাদেরকে বুঝিয়ে দিলে তো হবে না। আমাদের এখন প্রশাসনের কাছে দাবি বিএস রেকর্ড পর্যালোচনা করে সঠিক বিচার ও বর্তমানে মোঃ দ্বীন ইসলাম যেন সকল কাজ কর্ম বন্ধ রাখে।

প্রতিপক্ষ বিবাদী মোঃ দ্বীন ইসলাম বলেন, এই সম্পত্তি শামসুল হক গাজী, ফজলুল হক গাজী ও মন্নান গাজী তিনজনের নামে মোট সম্পত্তি ৩২ শতাংশ। প্রত্যেকে ১০ শতাংশ ৬৬ পয়েন্ট করে পায়। আমরা আছি আমাদের বাবা ফজলুল হক গাজীর ওয়ারিশ হিসেবে। তবে আমি আছি ১১ শতাংশের উপরে আমার ভাই হারুন গাজীসহ।

আদালতের আদেশের প্রতি সম্মান রেখে বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সম্পর্কিত খবর