
সাইফুল ইসলাম সিফাত : চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেছেন, ভোটের মাঠে আইনের ব্যত্যয় ঘটলে গ্রেফতার করা হবে’। আচরণবিধির ব্যত্যয় ঘটলেই প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হবে এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর ২০২৫) হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিন।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, আমাদের চরিত্র সংশোধনের প্রয়োজন। আমাদের দেশে ভোটের সময় হলেই অমুক ভাই, তমুক ভাই। এটা চলতে পারবে না। আপনি আইনের পথে চলবেন, আপনাকে একদম স্যালুট। আল্লাহ আমাকে আমানতদার হিসেবে ডিসি বানিয়ে চাঁদপুরে পাঠিয়েছেন, সেটা পালন করা আমার দায়িত্ব।
তিনি আরো বলেন, পুরো চাঁদপুরের মধ্যে শুধু হাজীগঞ্জের ৫টি ফোন পেয়েছি। কেনো আমাকে নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে ফোন পেতে হবে? রাজনৈতিক নেতারা স্ব স্ব উদ্যোগে নির্বাচন আচরণবিধি মেনে চলবেন। মাইন্ড ইট! (মনে রাখবেন) আগে কী হয়েছে ভুলে যান। অনেকে মনে করছেন নির্বাচন হবে না। নির্বাচন তো হচ্ছে। নির্বাচন করার জন্যে সরকার আমাদের প্রেরণ করেছে। কোনো হুমকি-ধমকি কাজে আসবে না। যদি কেউ বাড়াবাড়ি করেন একেবারে জায়গা মতো পৌঁছে দেবো।
জেলা প্রশাসক বলেন, ওয়াজের মঞ্চে রাজনৈতিক কোনো বক্তব্য চলবে না। যদি কেউ মাহফিলে রাজনৈতিক বক্তব্য দেন, তাকে সাথে সাথে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগের কালচার ভুলে যান। নির্বাচন হবে পেশী শক্তি দিয়ে নয়, দরদ দিয়ে– উৎসবমুখর পরিবেশে, নিরপেক্ষ। একেবারে নিশ্চিত থাকেন, এর বাইরে কোনো সুযোগ নেই।
হাজীগঞ্জের যানজট নিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, হাজীগঞ্জ বাজারে এতো যানজট কেনো হবে? হাজীগঞ্জ বাজারতো হকারমুক্ত হয়েছিলো।
ডিসি বদলি হয়েছে, ডিসি আসছে। ডিসি তো কোনো বিষয় নয়। চেয়ারকে সম্মান জানাবেন। হাজীগঞ্জ বাজারের ফুটপাতে কোনো হকার বসতে পারবে না, এটাই সিদ্ধান্ত। এর বাইরে কোনো কথা নেই। দোকানের বাইরে কোনো মালামাল থাকবে না। যদি দোকানের বাইরে কোনো মালামাল থাকে, তাহলে জরিমানা করা হবে। প্রয়োজনে গ্রেপ্তার করা হবে। তবুও হাজীগঞ্জ বাজারে যানজট দেখতে চাই না। রাস্তায় যে ড্রেন করা হয়েছে, সেই ড্রেনের উপরও কেউ বসতে পারবে না।
হাজীগঞ্জের পরিবেশ নিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, হাজীগঞ্জে অনেক বহুতল ভবন হয়েছে। বিল্ডিং কোড মেনে এসব বিল্ডিং করা হয়েছে কিনা জানি না। তবে সকল ভবন বিল্ডিং কোড মেনে করতে হবে। হাজীগঞ্জ পৌরসভার ময়লা আবর্জনার জন্যে দ্রুত ডাম্পিং স্টেশনের ব্যবস্থা করা হবে।
হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জায়েদ হোসেনের সভাপ্রধানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিনা জাহান, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হান আরফিন, থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মনির, সদস্য সচিব এমএ রহিম পাটওয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ নাফের শাহ, মোশারফ হোসেন মজুমদার স্বপন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আবুল খায়ের মজুমদার,
যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার হোসেন ভুলু মুন্সী, নুরনবী সম্রাট, হেলাল উদ্দিন মজুমদার, শাহাবুদ্দিন শাহীন মজুমদার, খালেদ মাহমুদ মিঠু মুন্সী, শাহাবুদ্দিন সাবু, নজরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান সেলিম, বিল্লাল হোসেন পাটওয়ারী, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সুমন, সদস্য সচিব মোস্তফা কামাল সুমন, যুগ্ম আহ্বায়ক শুক্কুর আলম, জুলহাস চৌধুরী, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মারুফ হোসেন রাসেল খান, সদস্য সচিব নাজমুল হাসান রাসেল, মাহফুজুর রহমান রবিন, জহির আহমেদ জহির, রোমান গাজী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বিল্লাল হোসাইন বেলাল, সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম চৌধুরী মিঠু, জামায়াতে ইসলামীর জেলা সহকারী সেক্রেটারী জাহাঙ্গীর আলম প্রধান,
জেলা জামায়াত নেতা মাওলানা আবু জাফর, নায়েবে আমীর মোজাম্মেল হোসেন মজুমদার পরান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী মো. জয়নাল আবেদীন, পৌর জামায়াতের আমীর মাও. আবুল হাসানাত পাটওয়ারী, হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) আলহাজ্ব মিজানুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি তসলিম আলম তুহিন, সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসাইন চৌধুরী,
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, সুলতান আহমেদ, প্রেসক্লাব সভাপতি খালেকুজ্জামান শামীম, সাধারণ সম্পাদক এনায়েত মজুমদার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ উপজেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আলী পাটোয়ারী, সেক্রেটারী সুমন মোল্লাসহ বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষক, সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক, সামাজিক নেতৃবৃন্দ।




