মতলব দক্ষিণে নিযিদ্ধ আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ !

বিশেষ প্রতিনিধি: চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় আদালতের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা (স্থিতাবস্থা) উপেক্ষা করে এক বিধবা নারীর জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ১০নং ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়ন নিযিদ্ধি আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো: গোলাম নবী বাদলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী মতলব দক্ষিণ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ থানাধীন নবকলস (কাজী বাড়ী) গ্রামের বাসিন্দা মৃত কাজী বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী শাহজাদী মোহছেনা আক্তার (৫৫) এবং একই গ্রামের মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো: গোলাম নবী বাদল (৬০)-এর মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে।

মতলব দক্ষিণ দেওয়ানী আদালত (মোকদ্দমা নং-১১৭৯/২০২৬) সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সিনিয়র সিভিল জজ মোঃ সোহেল আহমেদ বিরোধপূর্ণ নালিশী ভূমিতে কোনো পক্ষ যাতে এর আকার-আকৃতির পরিবর্তন বা হস্তান্তর করতে না পারে এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে- সে জন্য উভয় পক্ষকে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমির বর্তমান অবস্থা অপরিবর্তিত রাখার আদেশ প্রদান করেন।

ভুক্তভোগী শাহজাদী মোহছেনা আক্তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, তাঁর স্বামী গত এক বছর পূর্বে মারা যাওয়ার পর এবং কোনো ছেলে সন্তান না থাকায় তিনি একা বাড়িতে বসবাস করছেন। এই সুযোগে দেবর সম্পর্কের বিবাদী আওয়ামী লীগের নেতা মো: গোলাম নবী বাদল দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত শত্রুতা পোষণ করে আসছেন এবং জায়গা জবরদখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছেন।

অভিযোগে আরও জানানো হয়, গত ১৯ অক্টোবর ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৭টার সময় আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও নির্দেশ অমান্য করে বিবাদী জোরপূর্বক ভুক্তভোগীর বসতবাড়ির কাঁঠাল, আম ও কড়াই গাছ কেটে নিয়ে যান। এ সময় ভুক্তভোগী বাধা দিতে গেলে বিবাদী ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে গালিগালাজ, মারধরের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করেন।

প্রতিবেশীরা জানান, ১৯৯০ সালে বিল্লাল কাজী জমিটি ক্রয় করেন। তিনি ২০২৫ সালে মারা যাওয়ার পর ২০২৬ সালে এসে গোলাম নবী বাদল আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে লোকজন নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করেন এবং জমিতে থাকা গাছপালা কেটে ফেলেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে প্রতিবেশীদের উপেক্ষা করা হয় এবং মৃত বিল্লাল কাজীর স্ত্রীকে লাঞ্ছিত ও মারধরের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পুলিশকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বিধবা নারী নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
(শেষ পৃষ্ঠার ২কলাম )

সম্পর্কিত খবর