নোটিশের সময়সীমা শেষ অপসারণ হয়নি চাঁদপুর আরএস টাওয়ারের অবৈধ বর্ধিত অংশ!

চাঁদপুর খবর রিপোর্ট : চাঁদপুর শহরের মিশন রোডে অবস্থিত বহুল আলোচিত আরএস টাওয়ারের অনুমোদনবহির্ভূত বর্ধিত অংশ অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে চাঁদপুর পৌরসভা।

তবে নোটিশ জারির নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও ভবনটির অবৈধ বর্ধিত অংশ অপসারণ করা হয়নি। গত ১২ অক্টোবর পৌর প্রশাসক দেবাশীষ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক পত্রে আগামী সাত দিনের মধ্যে ভবনটির অবৈধ বর্ধিত অংশ নিজ দায়িত্বে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। অথচ ওই নির্দেশনার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও আরএস টাওয়ার কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করেনি।

জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর ভবনটির বারান্দাসংলগ্ন ৩৩ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে দুই শিশু দগ্ধ হয়। তাদের মধ্যে রাব্বি নামের শিশুটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৮ অক্টোবর মারা যায়। অপর শিশু ফাইজার দগ্ধ শরীর নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় গত ১২ অক্টোবর চাঁদপুর পৌরসভা আরএস টাওয়ারের মালিককে নোটিশ দিয়ে অনুমোদনবহির্ভূতভাবে নির্মিত ভবনের অংশটি অপসারণের নির্দেশ দেয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, অনুমোদিত নকশার বাইরে আরএস টাওয়ারের নির্মাণকাজ করা হয়েছে, যা স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড ও ইমারত নির্মাণ আইন অনুযায়ী অবৈধ। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে নিজ ব্যয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্মিত স্থাপনার অবৈধ অংশ অপসারণ করতে বলা হয়। অন্যথায় পৌর কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আরএস টাওয়ারে দুর্ঘটনার স্থানটিতে (বারান্দায়) ভবনমালিক দেয়াল নির্মাণ করেছেন। তবে এ বিষয়ে জানতে ভবনমালিকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে, ভয়াবহ দুর্ঘটনায় দুই শিশুর হতাহত হওয়ার ঘটনা এবং পৌর কর্তৃপক্ষের কঠোর নির্দেশনার পরও আরএস টাওয়ারের অবৈধ বর্ধিত অংশ অপসারণ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, প্রশাসনের নির্দেশনা ও জননিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করে কীভাবে ভবনটির অবৈধ অংশ বহাল রয়েছে? এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পৌরসভার নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এখন দেখার বিষয়, পৌর কর্তৃপক্ষ দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে কি না, নাকি ভবনমালিক নিজ উদ্যোগে অবৈধ বর্ধিত অংশ অপসারণ করেন। সে অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী।

সম্পর্কিত খবর