
স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সদর উপজেলার বাবুরহাট-শাহতলী (ফিডার রোড) সড়কে সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার এক মাস না পেরোতেই বিভিন্ন স্থানে ঢালাই উঠে যেতে শুরু করেছে। সড়কের এমন অবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। তাঁদের অভিযোগ, সংস্কারকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার কিংবা যথাযথ তদারকির অভাবে সড়কটির এমন অবস্থা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জেলা কারাগার থেকে শাহতলী বাজার পর্যন্ত সড়কটি বেহাল অবস্থায় ছিল। সড়কটির বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য এবং চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের হস্তক্ষেপে সড়কটির সংস্কারকাজ করা হয়।
তবে সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের ঢালাই উঠে যাওয়ার অভিযোগে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় স্থানীয়রা বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের নজরে আনেন।
সরেজমিনে সড়কের কয়েকটি স্থানে ঢালাই উঠে যাওয়ার চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, ঢালাইয়ের কিছু অংশ এতটাই দুর্বল যে হাতের সামান্য চাপে তা গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। এতে সড়কটির স্থায়িত্ব ও নির্মাণকাজের মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর সড়কটি সংস্কার করা হলেও এত অল্প সময়ের মধ্যে ঢালাই উঠে যাওয়ার কারণ কী? নির্মাণকাজে ব্যবহৃত উপকরণের মান, ঢালাইয়ের পুরুত্ব, কাজের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি যথাযথ ছিল কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।
সরকারি উন্নয়নকাজে নির্ধারিত মান ও কারিগরি নির্দেশনা অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করার বিধান রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংস্কারকাজের মান যাচাই, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ রায়হাত আমিন পাটওয়ারী জানান, বাবুরহাট-শাহতলী সড়কে ঢালাইয়ের সময় কয়েকটি স্থানে অবৈধভাবে স্পিড ব্রেকার তৈরি করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্কুলের শিক্ষক ও এলাকাবাসীর অনুরোধে এসব স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করা হয়েছিল। এর কারণে সড়কের কিছু স্থানে ঢালাইয়ের কাজ যথাযথভাবে করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, সড়কের অধিকাংশ স্থানই ভালো রয়েছে। তবে দু-একটি স্থানে কিছু সমস্যা রয়েছে। তিনি সরেজমিনে গিয়ে সড়কটি পরিদর্শন করেছেন এবং সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দিয়েছেন।
সড়কের সংস্কারকাজের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগ এবং ঢালাই উঠে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
### দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চান এলাকাবাসী
সড়কটি সংস্কারের অল্প সময়ের মধ্যে ঢালাই উঠে যাওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, নির্মাণকাজের মান যাচাই এবং দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত করে টেকসইভাবে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের পরিদর্শনে কী উঠে আসে এবং সড়কটির নির্মাণমান নিয়ে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।



