হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের মোতাওয়াল্লী শাকিল ও তার বাবা আলমগীর কবির পাটোয়ারী কারাগারে

চাঁদপুর খবর রিপোট : চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের বর্তমান মোতাওয়াল্লী প্রিন্স শাকিল আহম্মদ (৪২) ও তার বাবা সাবেক মোতাওয়াল্লী ড. আলমগীর কবির পাটোয়ারী (৭০) কে প্রতারণার মামলায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

একই বিরোধে দায়ের করা পাল্টা মামলায় মামলার বাদী ও ব্যবসায়ী কবির হোসেন লিটনকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে চাঁদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মুজাহিদুর রহমান পৃথক মামলায় এসব আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, ব্যবসায়ী মো. কবির হোসেন লিটনের দায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে সমন জারি করা হয়। নির্ধারিত দিনে প্রিন্স শাকিল আহম্মদ ও তার বাবা আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুজুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বিবরণ: অভিযোগে ব্যবসায়ী কবির হোসেন লিটন উল্লেখ করেন, হাজীগঞ্জের মকিমাবাদ শপিং সেন্টারে একটি দোকান কেনার জন্য তিনি ৪২ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও তাকে দোকান বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এমনকি টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। তবে বিবাদীরা ৪২ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ ঘটনায় গত ৭ জুলাই তিনি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় প্রতারণার মামলা করেন। এ মামলায় আসামিপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহছান হাবীব ও অ্যাডভোকেট রিয়াদ মুনতাসীর। অন্যদিকে বাদীপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাইফুল মোল্লা।

পাল্টা মামলা: এদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দণ্ডবিধির একই ধারায় গত ২২ জুলাই কবির হোসেন লিটনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন বড় মসজিদের বর্তমান মোতাওয়াল্লী প্রিন্স শাকিল আহম্মদ। ওই মামলায় সিরাজুল ইসলাম, মো. শাহ আলম ও মুহাম্মদ রাহমাতুল্লাহকেও আসামি করা হয়। পাল্টা মামলার অভিযোগে বলা হয়, ঠিকাদার কবির হোসেন লিটন মকিমাবাদ শপিং সেন্টারের নির্মাণকাজ করার সময় অন্যান্য আসামিদের সাথে নিয়ে প্রতারণা করেছেন এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করেননি।

এই মামলাতেও তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত সমন জারি করেন। পরবর্তীতে হাজিরা ও শুনানি শেষে বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কবির হোসেন লিটনকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও উভয় পক্ষের আইনজীবীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। মামলাগুলোর অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বিষয়ে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সম্পর্কিত খবর