
নদীর জলাশয়ে মা ইলিশ রক্ষার্থে তৎপর হতে উর্দ্ধতনদের কাছে মোটাদাগে বরাদ্দ চাইলেন চাঁদপুরের মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফকরুল ইসলাম। সঠিকভাবে চাহিদামোতাবেক বরাদ্দ পেলে তবেই অভিযান সফল হবে এবং নদীতে বাড়বে ইলিশ উৎপাদন দাবী তার।
২৭ সেপ্টেম্বর রোববার জেলা মৎস কর্মকর্তা থেকে প্রেরিত উর্দ্ধতনের কাছে পাঠানো বরাদ্দ চাওয়ার একটি পত্র এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
যেখানে,চাঁদপুর সদরে ১টি স্পীডবোটের স্থলে আরও ৩টি স্পোডবোটসহ মোট চালক ৪ জন, হাইমচরে ১টির স্থলে আরও ২টি স্পীডবোটসহ মোট চালক ৩ জন, মতলব উত্তরের জন্য নতুন করে ২টি স্পীডবোট ও ২ জন চালক, মতলব দক্ষিণে ১টি স্পীডবোট ও ২ জন চালক এবং দিন প্রতি সদর ও হাইমচরের সবকটি স্পীডবোটের জন্য পৃথকভাবে ৭শ’ লিটার করে অকটেন, মতলব উত্তরের প্রতিটি স্পীড বোটের জন্য ৪শ’ লিটার করে অকটেন এবং মতলব দক্ষিণে দৈনিক ৬৬০ লিটার করে অকটেন চাওয়া হয়েছে। একই সাথে প্রতিজন চালকের জন্য মাথাপিছু ২০ হাজার টাকা করে পারিশ্রমিক চাওয়া হয়েছে।
মাত্র ২২ দিনের অভিযানে এমন মোটাদাগে বরাদ্দ চাওয়া কতটা যৌক্তিক এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফকরুল ইসলাম বলেন, অভিযান সফল কিভাবে করবো? যেখানে জেলা ও সদর মিলিয়ে স্পীডবোট রয়েছে ১টি এবং হাইমচরে ১টি। মতলব উত্তর ও দক্ষিণে ত স্পীডবোটই নেই।তারমধ্যে এই ৪ উপজেলার জন্য ১ জন স্পীডবোট চালকও নেই। আমরা অভিযান চালাবো কিভাবে?
তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে জেলার নিবন্ধিত চাঁদপুর সদরের ১৯ হাজার ৮শ’ জন,হাইমচরের ১২ হাজার ৩শ’ ৩ জন,মতলব উত্তরের ৯ হাজার ৪ জন এবং মতলব দক্ষিণের ১ হাজার ৬শ’ ৮৩ জনসহ মোট ৪২ হাজার ৭শ’ ৯০ জন জেলে রয়েছেন। অতিলোভে কখনও এরা কিংবা এই নিবন্ধিত জেলেদের বাইরেও আশপাশের জেলার জেলেরা নদীতে নেমে পড়ে। তাদের ঠেকাতে কঠোর নজরদারি করতে মতলব উত্তরের ষাটনল হতে হাইমচরের চরভৈরবীর ৭০ কিলোমিটার বিশাল নৌ অঞ্চলে বরাদ্দ না পেলে নজরদারি করা অসম্ভব। তারমধ্যে আমাদের লোকবলও পর্যাপ্ত নেই। তাই লোকবলও চেয়েছি। এখন দ্রুত বরাদ্দ প্রয়োজন।
এবার ২০২৬ সালের ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষার্থে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত মোট ২২ দিন ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এসময়ে মোট ৪২ হাজার ৭শ’ ৯০ জন জেলেকে বিশেষ বরাদ্দে ২৫ কেজি করে চাউল দেয়া হবে।
জেলেদের সচেতন করাসহ শুধুমাত্র প্রচারণা কাজে জেলাসহ মোট ৪ উপজেলার জন্য ১ লাখ করে মোট ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এই প্রচারণা কিভাবে কোথায় করবেন কিংবা মিডিয়াখাতে খরছ করবেন কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফকরুল ইসলাম বলেন, মিডিয়াখাতে বা সংবাদ সম্মেলন করার জন্য বরাদ্দ চাইনি। এগুলো সভা সেমিনার লিফলেট ব্যণার পোষ্টার বাবদ চেয়েছি। এখন দেখা যাক কতটা পাই।
কিন্তু বরাদ্দ চাওয়ার স্থানে সচেতনতা সভা করার জন্য সদর,হাইমচর এবং মতলব উত্তরের জন্য পৃথকভাবে আরও ২ লাখ করে মোট ৬ লাখ এবং মতলব দক্ষিণের জন্য চাওয়া হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। আদৌত মতলব দক্ষিণের অভিযানের স্থান ধনাগোদা নদীতে মাত্র ১৫ কিলোমিটার। অর্থাৎ মাত্র ১৫ কিলোমিটার নদীপথে নজরদারির জন্য এতো চাহিদা! শুধু তাই নয়, ২২ দিনের এই অভিযান সফল করতে জেলা, সদর,হাইমচর,মতলব উত্তরে নাস্তা, শ্রমিক মুজুরি ও মোবাইল কোর্ট বাবদ চাওয়া হয়েছে ৪ লাখ টাকা এবং মতলব দক্ষিণের জন্য চাওয়া হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। এ যেনো এলাহি কারবারের মতো বরাদ্দ চাওয়া, প্রশ্ন সুধীমহলের।
এসব বিষয়ে চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফকরুল ইসলাম বলেন, আমরা এভাবে বরাদ্দ চেয়েছি তথ্য সঠিক।এটি চট্টগ্রাম বিভাগের মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক বরাবর গত ১৩ সেপ্টেম্বর পাঠিয়েছি। আজকে পর্যন্ত এখনো কোন বরাদ্দ পাইনি।




