ক্লিন চাঁদপুরের ব্যতিক্রমী উদ্যোগে ব্যাপক সাড়া

মহসিন হোসাইন: ‘বর্জ্য জমা দিন, খাদ্য ও গাছ নিন’—এমন ব্যতিক্রমী স্লোগানকে সামনে রেখে চাঁদপুর শহরে পরিবেশ সচেতনতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠন ক্লিন চাঁদপুর। প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, কাগজসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে জমা দিলেই মিলছে খাদ্যসামগ্রী ও গাছের চারা। ব্যতিক্রমী এ কর্মসূচিতে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া মিলেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে চাঁদপুর শহরের পুরান বাজার এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য জমা দেওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে শাক-সবজি, আলু, পেঁয়াজ, চাল, ডালসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী ও গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে প্রায় অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নিয়ে উপহার গ্রহণ করেন।

কর্মসূচিতে স্থানীয়দের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করেন ক্লিন চাঁদপুরের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশ।

স্থানীয়রা জানান, পুরান বাজার এলাকায় পৌরসভার নির্ধারিত ডাস্টবিন থাকলেও অনেকেই বাসাবাড়ি ও দোকানের ময়লা-আবর্জনা রাস্তা, খাল ও নদীতে ফেলে দেন। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি খাল ও আশপাশের এলাকার সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্লিন চাঁদপুর বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসলেও এবার বর্জ্যের বিনিময়ে খাদ্যসামগ্রী ও গাছের চারা দেওয়ার উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে।

পুরান বাজার এলাকার কয়েকজন নারী বলেন, এলাকায় ডাস্টবিন থাকার পরও অনেকে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলেন। ক্লিন চাঁদপুর গত দুই বছর ধরে বিভিন্নভাবে মানুষকে সচেতন করে আসছে। এবার বর্জ্যের বিনিময়ে খাদ্যসামগ্রী ও গাছের চারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় মানুষ উৎসাহিত হয়ে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলছেন। তারাও এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গাছের চারা পেয়েছেন। এ ধরনের উদ্যোগ পুরো শহরের মানুষের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে তারা মনে করেন।

এলাকার অন্যান্য বাসিন্দারাও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য জমা দিয়ে খাদ্যসামগ্রী ও গাছের চারা পাওয়ায় মানুষ পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে আরও আগ্রহী হচ্ছেন। তাদের মতো এলাকার অনেকেই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে উপহার গ্রহণ করেছেন।

ক্লিন চাঁদপুরের পরিচালক ফয়সাল খান বলেন, আমরা গত দুই বছর ধরে শহরের সৌন্দর্যবর্ধনে কাজ করে যাচ্ছি। রাস্তার পাশে থাকা বিভিন্ন গাছ ও বিদ্যুতের পিলার রঙতুলির ছোঁয়ায় রঙিন করার পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে শহরকে সবুজায়নের উদ্যোগ নিয়েছি। শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে খাল, বিল, নালা ও ডাস্টবিনে স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে নিয়মিত কাজ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডাস্টবিন প্রদান, পানির ফিল্টার স্থাপনসহ নানা সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। করোনা মহামারির সময় থেকে স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি তরুণ-তরুণীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার আয়োজন করা হচ্ছে।

ক্লিন চাঁদপুরের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশ বলেন, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই ক্লিন চাঁদপুর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। আমাদের অন্যতম লক্ষ্য হলো মানুষকে সচেতন করে আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখা।

তিনি বলেন, বাসাবাড়ির বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে জমা দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতেই আমরা বর্জ্যের বিনিময়ে চাল, পেঁয়াজ, আলু ও গাছের চারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। প্রথম দিনেই মানুষের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছি। এখন থেকে অন্তত সপ্তাহে একদিন চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।

ক্লিন চাঁদপুরের উদ্যোক্তারা মনে করছেন, বর্জ্যকে শুধু আবর্জনা হিসেবে না দেখে সচেতনতা তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা গেলে মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস আরও কার্যকরভাবে গড়ে তোলা সম্ভব। ‘বর্জ্য জমা দিন, খাদ্য ও গাছ নিন’ কর্মসূচির মাধ্যমে একদিকে যেমন নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস তৈরি হবে, অন্যদিকে বাড়বে শহরের সবুজের পরিমাণ।

সম্পর্কিত খবর