প্রথম আলোর সংবর্ধনায় চাঁদপুরে ৫০০ শতাধিক কৃতী শিক্ষার্থীর মিলনমেলা

স্টাফ রিপোর্টার : প্রচণ্ড গরম ও তীব্র বৃষ্টির বাধা উপেক্ষা করে চাঁদপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত মিলনমেলা। প্রথম আলো ও শিখোর আয়োজনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এ কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় শহরের নতুন বাজার এলাকার রাজবাড়ী কমিউনিটি সেন্টারে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল চার জোড়া যমজ শিক্ষার্থীর একসঙ্গে উপস্থিতি।

চাঁদপুর জেলা থেকে এবার মোট সাত জোড়া যমজ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে চার জোড়া যমজ শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে ডেকে নেওয়া হলে পুরো মিলনায়তন করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে। সংবর্ধিত যমজদের মধ্যে চাঁদপুর মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসনুবা নুর বারাকাত এবং কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী নাহিয়ান তাসনিম কারাকাত পৃথক দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করে বিশেষ নজর কাড়ে।

অনুভূতি প্রকাশ করে তাসনুবা নুর বারাকাত বলেন, “কলেজের প্রথম দিন, নবীনবরণ আর সংবর্ধনা—সব মিলিয়ে আজকের দিনটি আমাদের জন্য অন্য রকম এক আনন্দের।” আয়োজক সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী সংবর্ধনার জন্য নিবন্ধন করেছিল।

এর মধ্যে ৫০০ শতাধিক শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক-অভিভাবকের উপস্থিতিতে রাজবাড়ী কমিউনিটি সেন্টার কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে সকাল ১১টায় শুরু হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।

এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. অধ্যাপক মো. ইকবালুর রহমান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল্লাহ, মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মকবুল হোসেন এবং হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মমিনুল হক। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর চাঁদপুর প্রতিনিধি আলম পলাশ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভার সভাপতি মাসুদ হাসান ও মাসুম পারভেজ।

অভিভাবকদের পক্ষে মো. সোলায়মান ও তানিয়া এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে আলিকা তাহসিন রাইসা ও সাজ্জাদ হোসাইন অনুভূতি প্রকাশ করেন। চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. অধ্যাপক মো. ইকবালুর রহমান বলেন, “একজন শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল করার পর সেটি ধরে রাখতে হবে। ভবিষ্যতেও যেন সে ভালো ফলাফল করতে পারে, সে জন্য অভিভাবকদের সব সময় সন্তানের পাশে থাকতে হবে। নিয়মিত ক্লাস করতে হবে, বাসায় পড়াশোনা করতে হবে এবং মোবাইল ফোনের ব্যবহার থেকে দূরে থাকতে হবে।

তাহলেই শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে সফল হতে পারবে।” অনুষ্ঠানে প্রথম আলোর হেড অব কালচারাল প্রোগ্রাম কবির বকুল শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান। বক্তব্য শেষে তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাদক, মুখস্থবিদ্যা ও মিথ্যাকে ‘না’ বলার শপথ পাঠ করান। পরে ঢাকার শিল্পী অনিক সূত্রধর ও স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ গান ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আইসক্রিমের আয়োজনে কৃতী শিক্ষার্থীদের জন্য দিনটি হয়ে ওঠে আনন্দঘন ও স্মরণীয়।

সম্পর্কিত খবর