চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ারও অভিযোগ!

স্টাফ রিপোর্টার: চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালের গেটের পাশে ন্যায্যমূল্যে ওষুধ বিক্রির দোকান থেকে ওষুধ কিনে প্রতারণার শিকার ক্রেতারা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাসপাতালের ন্যায্যমূল্যের দোকান থেকে লুলিজল লোশনসহ বিভিন্ন ওষুধ কিনে বাড়ি ফেরার পর এক রোগীর স্বজন বোতল খুলে লোশনটি খালি দেখতে পান বলে অভিযোগ করেছেন।অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দোকান থেকে লুলিজল লোশনসহ আরও কয়েক ধরনের ওষুধ কেনেন রোগীর স্বজনরা। বাড়িতে গিয়ে ব্যবহারের জন্য লুলিজল লোশনের বোতল খোলা হলে সেটি খালি পাওয়া যায়।

একই সঙ্গে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে নির্দিষ্ট কোম্পানির ওষুধ দেওয়া হলেও সেখানে অন্য কোম্পানির ওষুধ সরবরাহ করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় ও নিম্নআয়ের রোগীরা ন্যায্যমূল্যের দোকানের ওপর আস্থা রাখেন। সরকার নির্ধারিত মূল্যে ওষুধ পাওয়ার প্রত্যাশায় তারা এসব দোকান থেকে ওষুধ কেনেন। কিন্তু সেখানে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া, নির্ধারিত ওষুধের পরিবর্তে অন্য কোম্পানির ওষুধ দেওয়া এবং ওষুধের প্যাকেট বা বোতল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে রোগীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দোকানটির পরিচালনার সঙ্গে জড়িত রামু দত্তের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্যমূল্যের নামে অতিরিক্ত দামে ওষুধ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, সরকার নির্ধারিত ছাড়ে ওষুধ বিক্রির পরিবর্তে বিভিন্ন ওষুধে বেশি দাম নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দোকানটিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এবং সরকারি বরাদ্দের ওষুধ বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্যমূল্যের দোকানটি নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে। অতীতে দোকানটিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছিল বলেও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশে ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানে যদি রোগীদের সঙ্গে এমন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, তাহলে বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে কি না। তাদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এদিকে, ন্যায্যমূল্যের দোকানটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, ওষুধের মূল্য নির্ধারণ ও ছাড়ের নিয়ম যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না এবং রোগীদের অভিযোগের সত্যতা কী—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদন্তের দাবি উঠেছে। তবে এ বিষয়ে দোকান মালিক রামু দত্তের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

সম্পর্কিত খবর