
চাঁদপুর খবর রিপোর্ট : চাঁদপুরে প্যাসিফিক একাডেমির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর মূল শিক্ষাগত সনদ আটকে রাখার অভিযোগের তদন্তকে কেন্দ্র করে এবার পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। নাহিদুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, চাঁদপুর মডেল থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তার অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব ‘এসআই আল আমিন’ নামের এক পুলিশ অফিসারের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে তাকে জানানো হয়।
পরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের এক পর্যায়ে তদন্তের কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার পক্ষ থেকে পাওয়া গেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। চাঁদপুর প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকেও গতকাল বৃস্পতিবার দুপুরে এসআই আল আমিন এর মোবাইল নাম্বার ০১৯৯০৩৫৭৯৬৮ যোগাযোগ করলে তিনি পুলিশ অফিসার পরিচয় দেন এবং ঘটনাটি তদন্ত কেরে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান ।
পরবতীতে মডেল থানা থেকে জানা গেলো উক্ত এসআই আল আমিন নামের কেউ নেই এই থানায় ।
চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফয়েজ আহমেদ জানিয়েছেন, বর্তমানে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় ‘এসআই আল আমিন’ নামে কোনো কর্মকর্তা কর্মরত নেই। ওসি মো. ফয়েজ আহমেদ বলেন, প্রায় দুই মাস আগে আল আমিন নামে একজন এসআই চাঁদপুর সদর মডেল থানায় কর্মরত ছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি ওই থানায় কর্মরত নন।
শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৭ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. খায়রুল কবীরকে অবহিত করা হলে তিনি দৈনিক চাঁদপুর খবরকে বলেন, “এটি একটি প্রতারক চক্র। তারা আমাদের থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তার ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা করছে। এটি একটি ভুয়া চক্র, যারা মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “একটি চক্র বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকান থেকে মানুষের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে প্রতারণার কাজে ব্যবহার করে থাকে। এ ধরনের ঘটনায় কম্পিউটারের দোকানের অপারেটরদেরও জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগেও মতলব উপজেলায় এ ধরনের একটি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে।” ঘটনাটি সম্পর্কে
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি দৈনিক চাঁদপুর খবরকে বলেন, “আমি বিষয়টি দেখছি। এদিকে উঠছে একাধিক প্রশ্ন : শিক্ষার্থীর অভিযোগ, থানার ওসির বক্তব্য এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দেওয়া তথ্যের পর ঘটনাটি নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে। ‘এসআই আল আমিন’ পরিচয়ে শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগকারী ব্যক্তি আসলে কে? তিনি কীভাবে পুলিশের কর্মকর্তার পরিচয় ও ছবি ব্যবহার করলেন? শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে নেওয়া ৭ হাজার টাকা কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল? এ অর্থের সঙ্গে থানায় দায়ের করা অভিযোগের কোনো সম্পর্ক ছিল কিনা এসব বিষয় এখন তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
বিশেষ করে পুলিশের কর্মকর্তার পরিচয় ও ছবি ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগটি সত্য হলে, এটি শুধু একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার ঘটনা নয়; এর সঙ্গে পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করার বিষয়টিও জড়িত। অন্যদিকে, নাহিদুল ইসলামের মূল শিক্ষাগত সনদ আটকে রাখার অভিযোগের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে অর্থ লেনদেনের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে বিকাশ লেনদেনের তথ্য, ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর, কথোপকথনের তথ্য এবং পুলিশের কর্মকর্তার ছবি কীভাবে ওই ব্যক্তির কাছে গেল এসব বিষয় যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।




