
স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরে সরকারি চাল বিতরণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা চাল বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের পর জেলার খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও সরকারি খাদ্যশস্যের তদারকি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদাম (সিএসডি) ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকির দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি ফুড) জি. এম. ফারুক হোসেন পাটওয়ারী চাঁদপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ও কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদাম (সিএসডি) পরিদর্শনে আসবেন।
পরিদর্শনকালে খাদ্য বিভাগের কার্যক্রমসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার কথা রয়েছে। সাম্প্রতিক চাল পাচারের অভিযোগের বিষয়টিও তাঁর পরিদর্শনে গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নে জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা চাল বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে।
এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা শামীমের নাম আলোচনায় আসে। পরে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত ও তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার কথা জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানানো হয়। এ ঘটনায় উদ্ধার করা চালের পরিমাণ ৪ হাজার ৯৩০ কেজি, যা প্রায় ৪ দশমিক ৯৩ মেট্রিক টন। সরকারি সহায়তার চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ নতুন করে খাদ্যশস্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রক্রিয়ার তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
তবে এ ঘটনার সঙ্গে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় বা কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। সরকারি খাদ্যশস্য সংরক্ষণ, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় খাদ্যগুদাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে গুদামে চালের মজুত, গ্রহণ ও বিতরণের নথিপত্র, পরিবহনসংক্রান্ত হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। চাঁদপুরের কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামের কার্যক্রম নিয়ে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা নথিপত্র যাচাই ও সরেজমিন তদন্তের
মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের ব্যক্তিরা। বিশেষ করে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ও সরবরাহের হিসাবের সঙ্গে বাস্তব মজুতের মিল রয়েছে কি না, তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের আগামীকালের পরিদর্শনে খাদ্যগুদামের মজুত পরিস্থিতি, চাল গ্রহণ ও বিতরণের নথিপত্র, খাদ্যশস্য পরিবহন এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হতে পারে। তবে পরিদর্শনের নির্দিষ্ট কর্মসূচি ও আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তাই সাম্প্রতিক চাল পাচারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি কী ধরনের নির্দেশনা দেবেন, সেটিও এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সরকারি খাদ্যশস্যের অপব্যবহার রোধ এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে বরাদ্দ পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি। আগামীকালের পরিদর্শনে খাদ্য বিভাগের কার্যক্রমের পাশাপাশি সাম্প্রতিক অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।




