চাঁদপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের তর্পন অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোটার : চাঁদপুর শ্রী শ্রী কালীবাড়ি মন্দিরের আয়োজনে বিগত বছরের মতো এবছর ও পিতৃ তর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোর ৬ টায় চাঁদপুর শহরের ডাকাতিয়া নদীর ৫ নং ঘাট এলাকা দিয়ে পিতৃ তর্পণ অনুষ্ঠিত হয়। শ্রী শ্রী কালীবাড়ি মন্দিরের উৎসব উদযাপন কমিটির আয়োজনে পিতৃ তর্পণ অনুষ্ঠিত হয়। তর্পন উপলক্ষ্যে ভক্তদের কাছ থেকে ৬০ টাকা প্রনামি নেয়া হয়।

পিতৃ তর্পণ শেষে অংশ গ্রহণকারী সকল ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরন করা হয়। পিতৃ তর্পণের আয়োজক ছিলেন গোবিন্দ সাহা। সহযোগী ছিলেন রতন মিত্র ও নারায়ন মজুমদারসহ উৎসব কমিটির সকল সদস্য।

তর্পণ হলো দেবতা, ঋষি, এবং মৃত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে জল ও তিল নিবেদন করে তাঁদের সন্তুষ্ট করার বৈদিক পদ্ধতি। ‘তর্পণ’ শব্দের অর্থই হলো ‘তৃপ্তি’ পূর্বপুরুষদের আত্মা যাতে সন্তুষ্ট হয় সেই অভিপ্রায়ে তর্পণ করা হয়। পিতৃপক্ষ, অর্থাৎ আশ্বিন মাসের (চান্দ্রপঞ্জিকা) কৃষ্ণপক্ষের প্রথম দিন (পূর্ণিমা/প্রতিপদ) থেকে শুরু হয়ে অমাবস্যা/মহালয়া পর্যন্ত চলে।

তর্পণ শব্দ আসে ‘তৃপ’ ধাতু থেকে। যার অর্থ ‘তৃপ্তি’এ দ্বারা দেবতা, ঋষি ও পূর্বপুরুষদের প্রশান্তি ও সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা বোঝানো হয়। বৃহৎ ধর্মপুরাণ, বায়ুপুরাণ, স্কন্দপুরাণ, গয়া মাহাত্ম্য-সহ একাধিক পুরাণ গ্রন্থে তর্পণের গুরুত্ব ও বিধান রয়েছে। হিন্দু শাস্ত্রে “পিতৃদেবো ভব” উপমা পিতা ও মাতার দেবতারূপে পূজা ও স্মরণ তর্পণ উৎসের মূল কথা।

মহালয়ার ভোরে তর্পণ করার তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ও বিশেষ। এটি পিতৃপক্ষের সমাপ্তি এবং দেবীপক্ষের সূচনার দিন হিসেবে ধরা হয়। মহালয়া শব্দের অর্থ ‘মহান আশ্রম’ বা ‘মহান আলয়’, যেখানে দেবী দুর্গা মহামায়ারূপে আবির্ভুত হন। এই দিনই দুর্গাপুজোর সূচনা হয়। শাস্ত্র ও পুরাণ মতে, মহালয়ার ভোরে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করলে তাদের আত্মা শান্তি ও মুক্তি লাভ করে এবং তারা জীবিতদের আশীর্বাদ করেন।

শ্রী শ্রী কালীবাড়ি মন্দির, গোপাল জিউর আখড়া, ইসকন মন্দির, পুরান বাজার হরিসভা মন্দির একই ভাবে ডাকাতিয়া ও মেঘনা নদীতে তিল তর্পন অনুষ্ঠান উদযাপন করেছে।

সম্পর্কিত খবর