চাঁদপুরে আটক ৩৭০ কিশোর মুচলেকায় ছাড় ৩৫৬ জন, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর জেলার আটটি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। অভিযানে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সন্দেহভাজন মোট ৩৭০ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫৬ জনকে মুচলেকা গ্রহণপূর্বক ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে চাঁদপুর জেলার সব থানা ও ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নাদিরা নূর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উঠতি বয়সী কিশোরদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়ার পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের অংশ হিসেবে জেলার আটটি থানার পুলিশ একযোগে মাঠে নামে। চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও প্রতিটি থানার আওতাধীন যেসব স্থানে কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের উৎপাতের অভিযোগ রয়েছে, সেসব এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি অংশ নেন।

অভিযান শেষে মোট ৩৭০ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৫৬ জনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্য না পাওয়ায় অভিভাবকদের ডেকে এনে মুচলেকা গ্রহণপূর্বক ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, মুচলেকায় মুক্তি পাওয়া কিশোরদের অভিভাবকদের সন্তানের সার্বিক খোঁজখবর রাখা, নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগী করা এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ার বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নাদিরা নূর বলেন, কিশোর গ্যাং, উঠতি বয়সী কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিতকারী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মোট ৩৭০ জনকে আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় বিভিন্ন থানায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, তাদের অভিভাবকদের ডেকে এনে সন্তানদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের উৎপাত নিয়ন্ত্রণ এবং কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা রোধে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সম্পর্কিত খবর