
চাঁদপুর খবর রিপোর্ট : চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও চাঁদপুর সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) টিআইবি’র সহযোগিতায় ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ: অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা” স্লোগানে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস ২০২৬ উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে৷
গতকাল ২৮ সেপ্টেম্বর (সোমবার) সকাল সাড়ে ৯টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গনে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
র্যালি শেষে সকাল ১০টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) একরামুল ছিদ্দিকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি’র বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, জনগণ যেন প্রয়োজনীয় তথ্য সহজেই পেতে পারে সেজন্যে ওয়েব পোর্টাল হালনাগাদের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গোপনীয়তা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তথ্যের অবাধ প্রবাহের অনেক গুলো মাধ্যম আছে। তথ্য অধিকার আইনেই কোন তথ্য দেওয়া যাবে আর কোনটা দেওয়া যাবে না তা নির্ধারণ করা আছে।
তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেকে কোন না কোন ক্ষেত্রে সেবা গ্রহিতা হিসেবে কাজ করি। আবার আমরা যারা সেবাদাতা হিসেবে কাজ করি আমরা সবসময় তথ্য অধিকার আইনকে শ্রদ্ধা করবো। আমাদেরকে তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কোন তথ্যটা চাওয়া যাবে, আর কোন তথ্যটা চাওয়া যাবে না সেই বিষয় সম্পর্কেও আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবে। সনাক-টিআইবি তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রেসার গ্রুপ হিসেবে কাজ করেছে। চাঁদপুর জেলা ও ৮টি উপজেলার ওয়েব পোর্টালের উপর সনাক-টিআইবি যে স্টাডি করেছে তা খুবই সুন্দর হয়েছে। এজন্যে তিনি সনাক-টিআইবিকে ধন্যবাদ জানান।
ডিসি বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি, অনেক প্রতিষ্ঠানের ওয়েব পোর্টাল হালনাগাদ নেই। তাই মানুষের তথ্য পেতে খুবই সমস্যা হয়। তবে আমি আশা করছি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ওয়েব পোর্টালের তথ্যগুলো হালনাগাদ করবেন। যে সকল প্রতিষ্ঠানের তথ্য শতভাগ হালনাগাদ রয়েছে সে সকল প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানাই।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মির্জা আলিফ ইমরান।
তিনি বলেন, দেখা গেছে একই তথ্য অনেকে জানতে চায়। তথ্য চাইতে গেলে যখন জরুরি একটি সেবা দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে একটু অপেক্ষা করতে হবে। যে সকল তথ্য দিতে গেলে, সমাজ, দেশ ও রাষ্ট্রের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে সে সকল তথ্য প্রদান করতে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে। তথ্য অধিকার আইনেও উল্লেখ আছে রাষ্ট্রের এমন কিছু তথ্য আছে যা চাওয়া যাবে না। আমি লক্ষ্য করেছি আমাদের দপ্তরের তথ্যও হালনাগাদ নেই। সেক্ষেত্রে তথ্য হালনাগাদ করার জন্য আমি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করব। সনাক-টিআইবি’র এই ওয়েব পোর্টাল স্টাডিটি অনেক সুন্দর হয়েছে।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, তথ্য প্রদান ইউনিট মোঃ নাজমুল হুদার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সনাক সভাপতি মোঃ আলমগীর পাটওয়ারী, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, সনাকের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ মোশারেফ হোসেন, সনাকের সহ-সভাপতি অ্যাড. পলাশ মজুমদার, একাত্তর টেলিভিশনের চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি মোঃ আল আমিন ও চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মোঃ সালাউদ্দিন।
চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী বক্তব্যে বলেন, টিআইবি বিভিন্ন সময় অনেক আন্দোলন করেছে৷ এই আন্দোলনের ফসল হচ্ছে তথ্য অধিকার আইন৷ তথ্য পাওয়ার অধিকার একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। যারা গণমাধ্যমকর্মী তাদের প্রতিনিয়ত তথ্য প্রয়োজন। তথ্য পাওয়া আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজন৷ প্রযুক্তির যুগে প্রতিটি দপ্তরের ওয়েব পোর্টালে হালনাগাদ তথ্য থাকা প্রয়োজন । কিন্তু অনেক দপ্তর তাদের ওয়েব পোর্টালে দীর্ঘদিন তথ্য হালনাগাদ করেনি৷ অনেকে ওয়েব পোর্টালে মোবাইল নম্বর না দিয়ে টিএন্ডটি নম্বর দিয়ে রেখেছে। এতে নাগরিকগণ সহজে দপ্তর প্রধানদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে নি।
চাঁদপুর জেলা ও ৮টি উপজেলার ওয়েব পোর্টাল স্টাডির তথ্য উপস্থাপন করেন টিআইবি’র এরিয়া কোঅর্ডিনেটর মোঃ মাসুদ রানা।
সার্বজনীন তথ্য অধিকার, প্রবেশগম্যতা ও জন-অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে টিআইবি’র সুপারিশসমূহ হলো- অবিলম্বে তথ্য কমিশন পুন: গঠন করতে হবে। সার্চ কমিটির মাধ্যমে শুধু আমলা বা রাজনৈতিক পছন্দের ব্যক্তিদের না এনে, তথ্য কমিশনকে অধিকতর কার্যকর করার স্বার্থে যোগ্য ও দলীয় প্রভাব মুক্ত ব্যক্তিদের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ প্রদানসহ এই সংস্থাটিকে সম্পূর্ণরূপে ঢেলে সাজাতে হবে, প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারদের পদমর্যাদা অন্যান্য সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে নির্ধারণ করতে হবে, অন্যান্য সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কমিশনের জনবলের জন্য বেতন-ভাতা, পদমর্যাদা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধাসহ অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার উন্নয়ন করতে হবে, ‘‘নোট শিট’’ ও ‘‘রাজনৈতিক দল’’ অন্তর্ভুক্তসহ অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে তথ্য অধিকার আইনের বিভিন্ন ধারা সংস্কার করে, এটিকে আরোও যুগোপোযোগী করতে হবে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের আয়-ব্যায়ের বিভিন্ন খাতওয়ারি খরচ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার চর্চা করতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে স্বপ্রণোদিত হয়ে সে সকল তথ্য তাদের ওয়েবসাইটে যথাসময়ে প্রকাশ করতে হবে, বাক্স্বাধীনতা ও ভিন্নমতের অধিকার নিশ্চিতের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে তথ্য অধিকার আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এক্ষেত্রে সকল আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। আইনের মাধ্যমে সৃষ্ট জনগণের ওপর যেকোনো ধরনের ডিজিটাল নজরদারী কাঠামো নিশ্চিহ্ন করতে হবে। বিশেষ করে প্রস্তাবিত ‘‘ডিজিটাল সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ এর বিতর্তিক ধারা ও বিষয়সমূহ বাদ দিতে হবে, তথ্যপ্রকাশ ও তথ্যে অভিগম্যতার সুবিধার্থে ডিজিটাল টুলসের ব্যবহার সহজলভ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯- এর পরিপন্থি বিদ্যমান আইনসমূহ সংস্কার ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাতিল করতে হবে। নতুন কোনো আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে তথ্য অধিকারের মূল চেতনার পরিপন্থি বা আইনটির কার্যকর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে, এমন কোনো ধারা যাতে সংযোজিত না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে, তথ্য অধিকার আইনে তথ্য প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে যথাযথ ধারণা ও তথ্য প্রদানে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা অর্জনে বিভিন্ন কারিগরি ও অনলাইন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং তথ্য প্রদানে আগ্রহ সৃষ্টির কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে, তথ্য অধিকার আইনের অধিকতর বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণমূলক কার্যক্রমে নাগরিক সমাজ, জনগণ ও গণমাধ্যমের কার্যকর অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে, আদিবাসী জনগোষ্ঠীসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদের তথ্য অধিকার আইনের ব্যবহারে সচেতনতা ও সক্ষমতা সৃষ্টির বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে, প্রাতিষ্ঠানিক স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ ও প্রচার বৃদ্ধির লক্ষ্যে তথ্য কমিশন ও সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সকল সংস্থার নিজস্ব ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, তথ্যপ্রকাশ ও প্রচারে প্রতিষ্ঠানসমূহের দক্ষতা ও সংগতি পর্যবেক্ষণের জন্য তথ্য কমিশনের ক্ষমতা ও তদারকি বাড়ানোসহ তদারকি কার্যক্রমে নাগরিক সমাজ ও জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে, তথ্য অধিকার নিশ্চিতে গণমাধ্যমকে অধিকতর কার্যকর ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহ, সুশীল সমাজ, তথ্য কমিশন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যকর সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে, গুজব ও অপতথ্য মোকাবেলায় বস্তুনিষ্ঠ, সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিতে কার্যকর নীতি-কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে এছাড়াও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ, সনাক-চাঁদপুরের সদস্যবৃন্দ, গণমাধ্যম কর্মী, সুশীলসমাজের প্রতিনিধি, টিআইবি কর্মীবৃন্দ এবং এসিজি ও ইয়েস গ্রুপের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ক্যাপসান-১: গতকাল চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও চাঁদপুর সনাক টিআইবি’র সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস ২০২৬ উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
ক্যাপসান-২: গতকাল চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও চাঁদপুর সনাক টিআইবি’র সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।




