
নিজস্ব প্রতিবেদক :চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের ইসলামীয়া বাজার ও নতুন বাজার এলাকায় সেচ ক্যানেলের ওপর প্রতিদিনই নতুন নতুন দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকারি সেচ প্রকল্পের জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে কৃষকদের সেচব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইসলামীয়া বাজার এলাকায় সেচ ক্যানেলের ওপর দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১৫টি দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সেচ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দোকানপাটে ভরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফখরুল সরকার ও শাহজালাল ঢালীর নেতৃত্বে এসব দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি দোকানের জন্য ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে এবং এর বিনিময়ে দোকান নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা নিজেদের জন্যও দোকানের জায়গা তৈরি করে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় সেচ প্রকল্পের জায়গা দখলের চেষ্টা চলছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কৃষকদের আশঙ্কা, সেচ ক্যানেল দখল করে দোকানপাট নির্মাণ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এতে সেচনির্ভর কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সেচ প্রকল্পের জায়গায় এভাবে দোকান নির্মাণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—সরকারি সেচ প্রকল্পের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ কীভাবে তৈরি হচ্ছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত?
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সেচ ক্যানেলের জায়গা দখল বন্ধ, নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী সাহেদ সেলিম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বাঁধ, নদীর তীর, খাল, জলাধার ও সরকারি পানি-সম্পদভুক্ত জমিতে কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ আইন ও বিধিবিধানের পরিপন্থী। এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, নদী ও খালের স্বাভাবিক গতিপথ ব্যাহত হওয়া এবং বন্যা ও ভাঙনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জনগণের জানমাল ও সরকারি সম্পদ সুরক্ষায় তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। অবৈধভাবে দখল করা সরকারি জমি বা পানি-সম্পদভুক্ত স্থানে স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




