চাঁদপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জুনায়েদ, শিবলু ও মিশুর বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সদর উপজেলার বাঘড়া বাজার এলাকায় সরকারি জায়গায় ডাকাতিয়া নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও একটি পরিত্যক্ত খাল ভরাটের অভিযোগে চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. জুনায়েদ খানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। চাঁদপুর মডেল মামলা নং ৭৯ তাং ১৬.৮.২০২৬ । ধারা ১১/১২ ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন -২০২৩ ।

মামলায় আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার অপর দুই আসামি হলেন ৮ নম্বর বাগাদী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শিবলু বেপারী এবং আরিফ হোসেন মিশু। প্রশাসনের নথিতে তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও খাল ভরাটের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে বাঘড়া বাজার এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর পাড়সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত খালের বাঁকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযোগ ছিল, ড্রেজারের মাধ্যমে ডাকাতিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে ওই খাল ভরাট করা হচ্ছে।

তবে অভিযানকালে ঘটনাস্থলে অভিযুক্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে মাটি উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজারও পাওয়া যায়নি। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জরিমানা বা দণ্ড প্রদান কিংবা ড্রেজার জব্দ করা সম্ভব হয়নি। অভিযানকালে প্রশাসন মাটি উত্তোলন ও খাল ভরাটের উদ্দেশ্যে নির্মিত একটি বাঁধ দেখতে পায়। পরিবেশ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং সরকারি সম্পদের ক্ষতি প্রতিরোধে বাঁধটি তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ করা হয়।

চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বাপ্পী দত্ত রনি স্বাক্ষরিত আদেশপত্রে বলা হয়েছে, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে মাটি উত্তোলন ও খাল ভরাটের সঙ্গে জুনায়েদ খান, আরিফ হোসেন মিশু ও শিবলু বেপারীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসনের আদেশে আরও বলা হয়, ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও খাল ভরাটের অভিযোগে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪ ও ৫ ধারার বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। এ অপরাধ ওই আইনের ১৫ ধারায় শাস্তিযোগ্য। পাশাপাশি সরকারি ভূমি ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের ক্ষতি করার অভিযোগে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ১১ ও ১২ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে মামলা রুজু ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ আগস্ট চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা নম্বর ৭৯ হিসেবে মামলাটি রুজু করা হয়। এতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে ডাকাতিয়া নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ সংরক্ষণ, অবৈধ ভরাট প্রতিরোধ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চাঁদপুর কার্যালয়ের উপপরিচালককে অনুরোধ করেছে প্রশাসন।
মামলার বিষয়ে জানতে আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

সম্পর্কিত খবর