নতুন মন্ত্রিসভায় চাঁদপুরের দু’জনকে নিয়ে আলোচনা

আহম্মদ উল্যাহ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুরের ৫টি আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬খ্রি.) সকাল ১০টায় শপথ গ্রহণ করবেন। শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

শপথ গ্রহণ করবেন চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-দক্ষিণ) আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী মো. জালাল উদ্দিন, চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর-হাইমচর) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আলহাজ্ব এমএ হান্নান চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জি. মমিনুল হক

নির্বাচন কমিশনের হিসাব মতে, চাঁদপুরে ভোটার ২৩ লাখ ৩১হাজার ১শ’ ৯৫। এবারের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ৫৩.০৫% ভোটার।

আজ সকাল ১০টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ গ্রহণ কক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। এদিকে আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

নতুন মন্ত্রিসভায় চাঁদপুরের দুজন সংসদ সদস্য আলোচনায় আছেন : তার মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন এহছানুল হক মিলন এবার শিক্ষা পূর্ণমন্ত্রী হচ্ছেন। তিনি গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৩শ’ ২৯ ভোট ও তার নিকটতমপ্রতিদ্ধন্দি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মুহাদ্দিস আবু নছর আশরাফী পেয়েছিলেন ৬৬ হাজার ৭ শ’ ৮১ ভোট।

এই ব্যবধানের জয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে এবং এখন ড. আ ন এহছানুল হক মিলনকে শিক্ষা মন্ত্রী হচ্ছে বলে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, চায়ের দোকান, হাট-বাজার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পর্যন্ত আলোচনা চলছে। ড. আ ন এহছানুল হক মিলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যয়নরত অবস্থায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে যুক্ত হন। ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় থাকাকাল থেকেই তিনি নেতৃত্ব প্রদর্শন করেছেন। পরবর্তীতে বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও চাঁদপুর-৩ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিককে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় চাঁদপুরবাসী। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে চাঁদপুর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। তার এই ঐতিহাসিক বিজয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভাসছে পুরো চাঁদপুর। নির্বাচনের পর থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে একটি জোরালো দাবি উঠেছে তারা তাদের প্রিয় নেতাকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চান। এ আসনের ১৬৫টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক পেয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬১০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৮১১ ভোট।

শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বর্তমানে চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দলীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

স্থানীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার উন্নয়নে কাজ করে আসছেন। শিক্ষা, অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক উন্নয়নে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। নির্বাচনী প্রচারণার সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে তার দৃঢ় অবস্থান ও নেতৃত্বগুণ জনগণের আস্থা আরও বাড়িয়েছে। চাঁদপুর-৩ আসনের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিকরাও তাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে আগ্রহী। তাদের বিশ্বাস, মন্ত্রিসভায় স্থান পেলে তিনি চাঁদপুরের উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন এবং জাতীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন। স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ীরা বলেন, “মানিক ভাই আমাদের সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে ছিলেন।

আমরা চাই তিনি মন্ত্রী হোন, তাহলে আমাদের এলাকার উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।” একই মত প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাও।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়া, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন এবং এলাকায় তার জনপ্রিয়তা তাকে সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় এগিয়ে রেখেছে। এখন দেখার বিষয়, দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি মন্ত্রীসভায় স্থান পান কি না। চাঁদপুরবাসীর প্রত্যাশা তাদের আস্থার প্রতিদান হিসেবে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক জাতীয় পর্যায়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবেন।

বাসস সূত্রে জানা যায়, ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে ইসি সূত্র জানায়। অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ইসির তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল ও ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

ইসি সচিব জানান, ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রামের দু’টি আসনের (চট্টগ্রাম ২ ও ৪) ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। বাকি ২৯৭টি আসনের প্রাপ্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর