চাঁদপুর প্রেসক্লাবের অভিষেক ও সমাবেশ উপলক্ষে নব-কমিটির প্রতি শুভ কামনা

শেখ মহিউদ্দিন রাসেল :২০২৬ শুরু। এ সালের সাথে নব উদ্যমে আবার শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর প্রেসক্লাবের নব -সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কর্মযজ্ঞ। ক্লাবের সমঝোতা কমিটিসহ অন্যান্য সদস্যদের সবসম্মতিক্রমে দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং বিজয় টিভির স্টাফ রিপোর্টার সোহেল রুশদী সভাপতি ও দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এম এ লতিফ হয়েছেন সাধারণ সম্পাদক। দু’জনই আমার বন্ধু মানুষ। সভাপতি পরিবার ও পত্রিকা আর সাধারণ সম্পাদক লেখাপড়ার খাতিরে বন্ধু হয়ে গেছেন। তাদের জানাই অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

চাঁদপুর প্রেসক্লাব একটি ঐতিহ্যবাহী ক্লাব। তাই সঙ্গত কারণেই কে হচ্ছেন এই ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নতুন বছরের প্রারম্ভে সে দিকে নজর থাকে সমাজের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা হতে দেরি হলেও বিলম্ব হয় না নব নেতৃত্ব কে প্রশাসন থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা জানাতে। যেমনি এবারও হয়েছে ব্যাপকহারে। সর্বত্র আজ চাউর চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ৩৫ জন নতুন সদস্যের নির্বাচিত হওয়ার খবর।

সংস্কার পরবর্তী সরকার ও সামনে নির্বাচিত সরকার এ দুই এর মিশ্রনে ২০২৬ সাল। একই বছরে একদিকে দেশ সংস্কার অন্যদিকে এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন । এ দুই নিয়ে চাঁদপুর প্রেসক্লাব ক্লাবের দায়িত্ব পালন করছে এবং করতে যাচ্ছে নব নির্বাচিত সভাপতি সোহেল রুশদী ও সাধারণ সম্পাদক এমএ এ লতিফ । যদি এ বৈতরণী পার করা সম্ভব তারপরও বলবো তাদের সামনে এ এক কঠিন চ্যালেঞ্জ ।

তাদের দুজনের ঝুড়িতে আছে অনেক কর্মযজ্ঞ, অভিজ্ঞতা ও সফলতা। সভাপতি সোহেল রুশদী যেমনিভাবে একজন গণমাধ্যম কর্মী, দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক তেমনিভাবে একজন সংগঠক। তিনি এ অঞ্চলের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদে দীর্ঘকাল যাবত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ গুলো পরিচালনায় দেখেছি তাঁর প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ডের ভীত প্রচন্ড মজবুত। বিধি-বিধান ও আইন-কানুন যার আয়ত্বে রয়েছে। তিনি নিয়ম কানুনের বাড়িরে কোন কাজ করতে পছন্দ করেন না। তাছাড়া সোহেল রুশদী একজন অভিজ্ঞ, দৃঢ়চেতা ও সংগঠক হিসেবে পরিচিত। সোহেল রুশদী বর্তমান সরকার তথা আগত সরকারের মতাদর্শের একজন দেশপ্রেমিক । এ দেশপ্রেম কাজে লাগিয়ে প্রেস ক্লাবের সার্বিক উন্নয়ন অতি সম্ভব।
এ ছাড়া দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা ও সংগঠনের অভিজ্ঞতা সোহেল রুশদীর নেতৃত্বের আসনকে আরও পরিণত করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রেসক্লাব শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়—এটি সাংবাদিকদের অধিকার, মর্যাদা ও ঐক্যের প্রতীক। তবে বর্তমান সময়ে সদস্যদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা, পেশাগত মান রক্ষা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা তাঁর জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে তিনি পারবেন।

অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক এমএ লতিফ দায়িত্বশীল, কর্মঠ ও বাস্তববাদী নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি। ক্লাবের দৈনন্দিন কার্যক্রম, সদস্যদের সমস্যা সমাধান, প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত সম্পদ ও ক্লাবকে সচল ও সক্রিয় রাখা তাঁর জন্যও কম চ্যালেঞ্জের নয়।

এম এ লতিফ দৈনিক আমাদের সময়-এর জেলা প্রতিনিধি, ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের দীর্ঘ দিন সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। যেমনি সফল ব্যবসায়ী তেমনি একজন কর্মঠ সংগঠকও। তারও রয়েছে অভিজ্ঞতা । ক্লাবের সভাপতির সংস্পর্শে তিনিও কামিয়াব হবেন। প্রত্যাশা এটাই। তবে দু’জনই সাংবাদিক হিসেবে পেশাদার এবং সাংবাদিকতায় হলুদ তো দূরে থাক কোন রং লাগাতে দেননি।প্রেস হোয়াইট।

এ যোগ্যতাও প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পেছনের একটি কারণ। তারা একটি দৈনিক পত্রিকা নিয়মিত একাই প্রকাশ করার ক্ষমতা রাখে। এর কারনেই দৈনিক চাঁদপুর খবর নিয়মিত প্রকাশিত একটি পত্রিকা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে ।

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারি হিসেবে তাদের দুজনের ১৭ দিনের কর্মযজ্ঞ তারই প্রমাণ মিলেছে। আজ ১৭ জানুয়ারি হচ্ছে জমকালো আয়োজনের মধ্যদিয়ে অভিষেক। যেখানে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে। হবে সাংবাদিকদের জেলা সমাবেশ তথা গণমাধ্যমে কর্মীদের মিলন মেলা। ইতোমধ্যে এ পরিষদ কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম সভা করেছেন, দিয়েছেন স্মৃতি স্মারক উপহার, করেছেন বছরের ক্যালেন্ডার প্রকাশ ও কর্ম পরিকল্পনা, যোদ দিচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক ও পত্রিকার প্রোগ্রামে, বিনিময় হয়েছে প্রশাসনসহ সকলস্তরের ব্যক্তিবর্গের সাথে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় । সিক্ত হয়েছেন অফুরন্ত ফুলের শুভেচ্ছায় । সকল শ্রেণী পেশার মানুষের পেয়েছেন নিরবচ্ছিন্ন ভালোবাসা ও আন্তরিকতা।

২০২৬ সাল। সময়টা শুধু একটি নতুন বছরের সূচনা নয়, বরং চাঁদপুর প্রেসক্লাবের জন্য এক নতুন দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জের অধ্যায়। হয়েছে দেশ সংস্কার,চলছে নতুন সরকারের দায়িত্ব তার উপর আবার ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন, প্রেসক্লাবের নতুন ভবন নির্মাণ এবং সর্বপরি পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের কল্যাণ ও ঐক্য অটুট রাখা । সব মিলিয়ে বলবো কঠিন একটি সময়কাল । এই সময়টায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সোহেল রুশদী এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এমএ লতিফ। তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব, ভুয়া সংবাদের বিস্তার, সাংবাদিকদের সার্বিক কল্যাণ ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি—সব মিলিয়ে প্রেসক্লাব পরিচালনা সহজ কোনো কাজ নয়।

২০২৬ সালে প্রেসক্লাবকে এগিয়ে নিতে এই দুই নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের যুক্ত করা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি, নৈতিক সাংবাদিকতা চর্চা নিশ্চিত করা এবং প্রেসক্লাবকে একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

চ্যালেঞ্জ যত বড়ই হোক, সোহেল রুশদী ও এমএ লতিফের নেতৃত্বে চাঁদপুর প্রেসক্লাব নতুন আশার আলো দেখছে। অভিজ্ঞতা, সততা ও দলগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তারা যদি সামনে এগিয়ে যেতে পারেন, তবে ২০২৬ সাল প্রেসক্লাবের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক অধ্যায় হয়ে থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাংবাদিক সমাজের। সফল হোক চাঁদপুর প্রেসক্লাবের অভিষেক ও সাংবাদিক সমাবেশ।

লেখক : সংগঠক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ , চাঁদপুর।

সম্পর্কিত খবর