চাঁদপুরে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র প্রভাব পড়েনি: প্রশাসন ছিলো সার্বক্ষণিক প্রস্তুত

স্টাফ রিপোর্টার : অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখার তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেন্টমার্টিন। দ্বীপটিতে ঘণ্টায় ১৪৭ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যাচ্ছে।

সমুদ্রের পানিতে ভাসছে দ্বীপটির একাংশ। মোখার প্রভাবে দ্বীপটির ঘরবাড়ি ও গাছপালাসহ বহু স্থাপনা ভেঙ্গে পড়ছে। মোখার প্রভাবে আজ সোমবার সারাদেশে বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার (১৪ মে) বিকেল চারটার অধিদপ্তরের উপপরিচালক আসাদুর রহমান এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান।

এদিকে চাঁদপুরে ঘূর্ণিঝড় মোখার তেমন একটি প্রভাব পড়েনি। তারপরও জেলা প্রশাসন ছিলো সার্বক্ষণিক প্রস্তুত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩৫৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট ও জনপ্রতিনিধিরা ছিলো সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত। যারা আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছে তাদেরকে দেয়া হয়েছে শুকনো খাবার। চাঁদপুরের পদ্মা মেঘনা ছিলো শান্ত। তবে বাতাসের কিছুটা গতি ছিলো।

চাঁদপুর শহর রক্ষাবাঁধ থেকে শুরু করে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত সবচাইতে নীচু এলাকা হচ্ছে সদর উপজেলার হানাচর ইউনিয়ন। সেখানে সকাল থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা নদী তীর পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাব কিছুটা পড়েছে, কিন্তু মারাত্মক না। তবে পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চাইতে ৩-৪ ইঞ্চি বেড়েছে। আমাদের লোকজন উপকূলের বাঁধ এলাকা পর্যবেক্ষণে আছেন।

অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক আসাদুর রহমান বলেন, সেন্টমার্টিনে বাতাসের গতি ছিলো প্রচুর। অনেক ঘরবাড়ি উড়িয়ে নিয়ে গেছে। গাছ পড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে। কিন্তু বৈরী পরিবেশের কারনে বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় মোখা মূল আঘাত হানবে মিয়ানমারের ওপর। যে কারণে বাংলাদেশের জন্য অনেকটাই ঝুঁকি কেটে গেছে।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, সেন্টমার্টিনের প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূর দিয়ে মোখা অতিক্রম করেছে। তবে এর ৫০ শতাংশের বেশি অংশ মিয়ানমারের ওপর দিয়ে গেছে। সেন্টমার্টিনে ৫০ শতাংশ বা তার বেশি অংশ এলে তার বড় ধরনের প্রভাব কক্সবাজার পর্যন্ত থাকত। সেন্টমার্টিনে জলোচ্ছ্বাস ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র এখনও জানা যায়নি বলে উল্লেখ করেন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আসাদুর রহমান।

তিনি বলেন, সেখানে আবহাওয়া অফিসের তিন তলা ভবন কাঁপছে। আশপাশের টিনের চালা, দুর্বল স্থাপনা ভেঙ্গে পড়ছে। ১৪৭ কিলোমিটার বাতাসে দুর্বল স্থাপনা টিকে থাকে না। তবে জলোচ্ছ্বাসের খবর এখনও পাওয়া যায়নি।

সম্পর্কিত খবর