ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে চাঁদপুর জেলা পরিষদের ২৮ কোটি টাকা!

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর জেলা পরিষদের কোটি কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নিরাপদ ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে উপেক্ষা করে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে না পারা দেশের একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও তারল্যসংকটে থাকা বেসরকারি ব্যাংকে জেলা পরিষদের বিপুল অঙ্কের অর্থ জমা রাখা হয়েছে।

সাধারণ গ্রাহকরা যেখানে এসব ব্যাংক থেকে নিজেদের সঞ্চিত অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন না, সেখানে জেলা পরিষদের এই বিশাল অঙ্কের আমানত কীভাবে উদ্ধার বা উত্তোলন করা হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ও সংশয় দেখা দিয়েছে। এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী, মোঃ কবির হোসেন সরদার। ।অনুসন্ধানে জানা যায়, চাঁদপুর জেলা পরিষদের মোট ২৮ কোটি টাকা দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে জমা রয়েছে। তবে আমানতের সিংহভাগ অর্থই রাখা হয়েছে দেশের কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে তুলনামূলক কম অর্থ রাখা হলেও বড় অঙ্কের তহবিল জমা রয়েছে বেসরকারি খাতে।

জেলা পরিষদ চাঁদপুর অঞ্চলের ১৮টি ব্যাংকে আমানত রাখলেও এর মধ্যে কয়েকটি ব্যাংকে জমার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর জেলা পরিষদের স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) একটি বড় অংশ নিম্নলিখিত ব্যাংকগুলোতে জমা রয়েছে—দি সিটি ব্যাংক: ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড: ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি): ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা , পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক): ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা , এবি ব্যাংক লিমিটেড: ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা , সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক: ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা , যমুনা ব্যাংক লিমিটেড: ১ কোটি ২৫ লাখ ৩০ হাজার ৯৮৫ টাকা , ন্যাশনাল ব্যাংক: ২৫ লাখ টাকা , ব্যাংক এশিয়া: ২০ লাখ টাকা , ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি: ২০ লাখ টাকা, উত্তরা ব্যাংক: ১৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া আরও কয়েকটি ব্যাংকে জেলা পরিষদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমানত রয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকেও জেলা পরিষদের অর্থ জমা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ব্যাংকে রাখা অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে তুলনামূলক ঝুঁকি কম। ব্যাংকগুলো হলো—অগ্রণী ব্যাংক: ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংক: ২০ লাখ টাকা, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক: ৩০ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংক: ২০ লাখ টাকা, জনতা ব্যাংক: ২০ লাখ টাকা এবং পূবালী ব্যাংক: ৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

এ ছাড়া সিটি ব্যাংকেও অর্থ জমা রয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসন এই আর্থিক ঝুঁকির বিষয়টি অনুধাবন করে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকগুলো থেকে অর্থ উত্তোলন করে রাষ্ট্রায়ত্ত কিংবা তুলনামূলক নিরাপদ ব্যাংকে স্থানান্তরের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর তারল্যসংকট এবং অর্থ ফেরত দেওয়ার সীমাবদ্ধতার কারণে এখন পর্যন্ত এ প্রক্রিয়ায় আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে।

ফলে জেলা পরিষদের বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক একেএম সলিম উল্যা সেলিম।তিনি চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদীকে এসব বিষয়ের তথ্য-উপাত্ত প্রদান করেন ।

তিনি বলেন, সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অর্থ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে আমানত রেখে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু তা না করে কেন এবং কাদের স্বার্থে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঝুঁকিপূর্ণ বেসরকারি ব্যাংকে এফডিআর করা হলো, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, এসব অর্থ নিরাপদে ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে স্থানান্তরের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সরকারি এই বিশাল তহবিল কোন নিয়মে বা কার সিদ্ধান্তে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকগুলোতে রাখা হয়েছিল, তা সঠিকভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে এসব অর্থ দ্রুত নিরাপদে ফিরিয়ে এনে জেলার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন চাঁদপুরের সাধারণ নাগরিকরা। সেই সাথে বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রানালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে ।

অনুমতি পেলে সকল চাঁদপুরের ব্যাংক কতৃপক্ষ কে ডেকে পরবতী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে । আমরা মুলত চাই সোনালী ব্যাংকসহ রাস্ট্রয়াত্ত ব্যাংকে জেলা পরিষদের টাকা এফডিয়ারসহ সকল একাউন্ট জমা রাখতে ।

সম্পর্কিত খবর