রামপুরের আলগীতে মনিরকে কুপিয়ে জখম : মামলা দায়ের

চাঁদপুর খবর রিপোর্ট: চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫ নম্বর রামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আলগী গ্রামে মনির হোসেন বেপারী (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গতকাল ২৬ অক্টোবর দৈনিক চাঁদপুর খবরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন মামলার এসআই সোহেল ।

এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মামলার অন্যান্য আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রামপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ আলগী এলাকায় বাড়িতে প্রবেশের রাস্তার ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মনির হোসেন বেপারী স্থানীয় মালেক বেপারী বাড়ির বাসিন্দা।

তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত মনির হোসেন বেপারীর স্ত্রী নুরুন্নাহার আক্তার বাদী হয়ে ২৫ অক্টোবর চাঁদপুর সদর মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেন। মামলায় যাঁদের আসামি করা হয়েছে : এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন— আব্দুর রহমান মিজি (২২), পিতা মফিজ মিজি; লিমন (২৫), পিতা অজ্ঞাত; ঝরনা বেগম (৫০), স্বামী মফিজ মিজি; মফিজ মিজি (৬০), পিতা মৃত কালু মিজি; এবং ইয়াছিন মিজি (৩৫), পিতা মফিজ মিজি। তাঁদের সবার বাড়ি দক্ষিণ আলগী, ডাকঘর আলগী পাঁচগাঁও, ৯ নম্বর ওয়ার্ড, ৫ নম্বর রামপুর ইউনিয়ন, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর।

এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এজাহারে হামলার যে বিবরণ : মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাদীর বসতবাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় মনির হোসেন বেপারী তাঁদের বাধা দিলে তাঁকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বাড়িতে প্রবেশের সময় মনির হোসেন বেপারীর পথরোধ করে আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে তাঁর ওপর হামলা চালান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর বুক, পিঠ ও পেটে আঘাত করা হয়। এ ছাড়া লোহার রড দিয়ে হাত-পায়ে আঘাত করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করার অভিযোগও আনা হয়েছে। হামলায় তাঁর পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, এ ঘটনায় অভিযোগটি এজাহারভুক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এদিকে, মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

সম্পর্কিত খবর