
শামীম আহমেদ : ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সহ সকল মাছ ধরার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময়ে প্রজনন এলাকা চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা পারের বাজারের হোটেলগুলোতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে ডিম ওয়ালা ইলিশ।
উপজেলার মেঘনা পাড়ের ষাটনল বাজার, সটাকি বাজার, মোহনপুর বাজার, চরকাশিম বাজার, এখলাপুর বাজার, আনন্দ বাজার, আমিরাবাদ বাজারের ভাতের হোটেলগুলোতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে ডিমওয়ালা ইলিশ ভাজা। এ অঞ্চলের মানুষের কাছে ডিমবিহীন ইলিশের চেয়ে ডিমওয়ালা ইলিশের কদর অনেক বেশী।
খোঁজ খবরে জানা যায়, মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ৩০০ মিটারের দূরত্বের মধ্যে মেঘনা পাড়ের মোহনপুর বাজার। সেই বাজারেই উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিস। সপ্তাহের রবি ও সোমবার এখানে জমি রেজিস্ট্রি হয়। সপ্তাহে মাত্র দুদিন রেজিস্ট্রি হওয়ার কারণে এই দুই দিনে ৪ শতাধিক রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে। ৪০০শ’ রেজিস্ট্রি তে ৮০০শ’ পক্ষ। জমি রেজিস্ট্রি তে তাই প্রচুর লোক সমাগম ঘটে এবং জমি রেজিস্ট্রি করতে আসার কারণে তাদের হাতে থাকে পর্যাপ্ত নগদ টাকা।
রবিবার ও সোমবার রেজিস্ট্রি অফিস খোলার দিনে স্থানীয় মোহনপুর বাজারের ভাতের হোটেল গুলোতে প্রচুর ইলিশ ভাজা বিক্রির দৃশ্য দেখা গিয়েছে।
আইন অমান্য করে স্থানীয় হাটবাজার বা হোটেলে ইলিশ বিক্রি হতে দেখলে সচেতন নাগরিক হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে অবহিত করা জরুরি হলেও
এলাকার লোকজন তথ্য দেয়াটা ঝামেলা বা ঝুঁকিপূর্ণ ভেবে তথ্য দিতে চান না বলে জানান মেঘনা পাড়ের কয়েকজন স্কুল শিক্ষক।
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী জানান, ইলিশ প্রজননের সরকার নির্ধারিত এই নিষিদ্ধ সময়ে স্থানীয় হাটবাজার ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় অবাধে ইলিশ বিক্রি যা দেশের মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধিতে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা। প্রজনন মৌসুমে ইলিশ প্রজননের এই এলাকায় প্রশাসনের কঠোর হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন মহলের ভূমিকা রাখা উচিত।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে জানান, মাছ ধরা নিষিদ্ধ এলাকার হোটেল রেস্তোরাতেও খাওয়ার জন্য ইলিশ পরিবেশন করা সম্পন্ন নিষিদ্ধ। এরকমটা হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা টাক্সফোর্স কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, মা ইলিশ শিকারের নিষিদ্ধ সময়ে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির কথা চিন্তা করে হলেও স্থানীয় সচেতন মানুষদের এ বিষয়ে ভূমিকা রাখা উচিত।



