
সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী: দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর ধরে বেহাল ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে থাকা চাঁদপুর সদর উপজেলার বাবুরহাট–শাহতলী (সাবেক ফিডার রোড) সড়কের মেরামতকাজ শেষ হওয়ার পর সড়কটি পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুজ্জামান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. রাহাত আমিন পাটওয়ারী।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে পরিদর্শনকালে প্রকৌশলীরা সড়কের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। এ সময় সড়কের বিভিন্ন অংশের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরিদর্শনে সড়কের বেশির ভাগ অংশে তেমন কোনো সমস্যা দেখা না গেলেও নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানে কার্পেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং পিচের স্তর উঠে আসার বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাহাত আমিন পাটওয়ারী বলেন, “আমি সড়কটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। পুরো সড়কে তেমন কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। তবে নির্দিষ্ট দুটি স্থানে কার্পেটিংয়ে সমস্যা রয়েছে। দুই-এক দিন আগে ওই স্থানে একটি গাড়ির এক্সেল ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে গাড়িটির অতিরিক্ত ওজনের চাপে কার্পেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পিচের স্তর উঠে আসে। এ ছাড়া কিছু মানুষের অসচেতন কর্মকাণ্ডের কারণেও ওই স্থানের কার্পেটিং আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, আবহাওয়ার তাপমাত্রা, বিটুমিনের অবস্থা এবং সড়কের কারিগরি বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কার্পেটিং যথাযথভাবে স্থিতিশীল হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। বর্তমানে উচ্চ তাপমাত্রা ও কার্পেটিংয়ের ভেতরে আর্দ্রতা থাকায় নির্দিষ্ট স্থানটির পিচের স্তর নরম রয়েছে। এটি মূলত কারিগরি সমস্যা, যার সঙ্গে ভেতরে পানি বা আর্দ্রতা প্রবেশের বিষয়টি জড়িত থাকতে পারে।
সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে এক সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে বলে জানান উপজেলা প্রকৌশলী। তিনি বলেন, এ সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানটি পরিষ্কার করে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম এন জামিউল হিকমা বলেন, “পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করা হবে। নিয়ম মেনে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
জানা যায়, চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের মেরামতকাজ অনুমোদন করা হয়। দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
চাঁদপুর সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের দৈর্ঘ্য ২ হাজার ২৪২ মিটার। ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে সড়কটি মেরামতের জন্য চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার ৯৭২ টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কাজী এন্টারপ্রাইজ। গত ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মেরামতকাজ সম্পন্ন করে সড়কটি যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী করা হয়।
সড়কটি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে বাবুরহাট বাজারের সংযোগ স্থাপন করেছে। পাশাপাশি মৈশাদী ও রামপুর ইউনিয়নের মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ, ভাঙন ও বড় ধরনের ক্ষত সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বিশেষ করে বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ত। প্রায় ছয় বছর পর সড়কটি সংস্কার হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।



